সুন্দরবনে প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় বনদস্যুদের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন জেলে ও বনজীবীরা। মুক্তিপণের দাবিতে একের পর এক জেলেকে অপহরণ করছে তারা। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ১৪৫ জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে সুন্দরবনের পশ্চিমাংশে র্যাব-৬, খুলনা বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। রোববার সকাল সাড়ে ৭টায় র্যাবের পক্ষ থেকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
র্যাব-৬, খুলনার অপস অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম রোববার সকালে এক ক্ষুদে বার্তায় জানান, অপহৃত মৎস্যজীবীদের উদ্ধারের জন্য সুন্দরবনের পশ্চিমাংশে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের কালাবগি, মানকিরচর ও মাজাফুটো এলাকায় এ অভিযান চলছে।
জেলেদের সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সুন্দরবনের কোকিলমনি এলাকায় সশস্ত্র বনদস্যুরা মারধর করে ৩২টি জেলে নৌকা থেকে টাকা পয়সা ও মালামাল লুটে নেয়। ডাকাতরা ৩০ জেলেকে অপহরণ করে। বনদস্যুদের এই অত্যাচার নিত্যদিনের। বনদস্যুরা বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে।
সূত্র জানায়, হারবাড়িয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের দক্ষিণ দিক ধানসিদ্ধির চর এলাকা জাহাঙ্গীর ও গফফার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। জুলাই শেষে ও আগস্টের প্রথম দিকেও বন থেকে তারা দুই দফায় ৩৮ জেলেকে অপহরণ করে। ওই মাসের শেষের দিকে দুই দফায় ২৪ জেলেকে অপহরণ করে বনদস্যু সাগর ও জাহাঙ্গীর বাহিনী। সর্বশেষ মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের দুধমুখী ও ভাইজোড়া খাল থেকে ২২ জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে। অপহৃত ওই জেলেদের কাছে জনপ্রতি ২ লাখ টাকা করে দাবি করেছে জাহাঙ্গীর বাহিনী। গত ৯ সেপ্টেম্বর একই এলাকা থেকে বনদস্যু সাগর বাহিনীর হাতে অপহরণ হয় ১১ জেলে। ১৪ সেপ্টেম্বর পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসিদ্ধির চর এলাকা থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করা হয়।
এম এ





