মুখরোচক খাবারের তারিকায় সিঙ্গারা। বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে সিঙ্গারা ভালবাসেন এ দেশের হাজার হাজার খাদ্য রসিক মানুষ। তবে জানেন তো, এই সিঙ্গারা আদপে কোনও বাঙালি খাবার নয়!

একদল ইতিহাসবিদের মতে, ফার্সি শব্দ ‘সংবোসাগ’ থেকেই এই সিঙ্গারা শব্দের উত্পত্তি। তাঁদের দাবি, গজনবী সাম্রাজ্যে সম্রাটের দরবারে এক ধরনের নোনতা মুচমুচে খাবার পরিবেশন করা হতো। যার মধ্যে কিমা, শুকনো বাদাম জাতীয় অনেক কিছু দেওয়া হতো। এটাই নাকি সিঙ্গারার আদি রূপ।

তবে চমকে উঠবেন গাঙনালিয়া বাজারের ১০ টাকার প্যাকেজ আর ১ টাকার সিঙ্গারা। মাগুরার ভাঁজা পোড়া খাদকদের মাঝে পড়েছে ব্যাপক সাড়া।

১০ টাকার প্যাকেজ আর ১ টাকার সিঙ্গারা

মাগুরা নতুন বাজার থেকে ৯ কিলোমিটার উত্তরে ও শ্রীপুর উপজেলা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে মাগুরা সদরের শেষ প্রান্তের জায়গাটির নাম গাঙনালিয়া বাজার।

প্রাচীনকাল থেকেই এই বাজার এলাকার পরিচিতি রয়েছে। তেমনই এক টাকার সিঙ্গারা ও দশ টাকার প্যাকেজ অন্য রকম পরিচিতি বাড়িয়েছে গাঙনালিয়া বাজারকে মাগুরা জেলা জুড়ে।

কর্মের কারনে অনেক পেশাজীবি মানুষকে এই মাঝ পথে গাংনালিয়া বাজারে থামতেই হয় এই বিশেষ খাবারের স্বাদ গ্রহণের জন্য।

গাংনালিয়া বাজারের প্রধান সড়ক ঘেষে উত্তর- পূর্ব পার্শ্বে দোকান বসান মাত্র দুজন ব্যবসায়ী। সেখানে সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিন দুজন ব্যবসায়ী বসেন তেলে ভাঁজা বিভিন্ন খাবার নিয়ে। যার মধ্যে রয়েছে সিঙ্গারা, আলুর চপ, বেগুনির চপ, পেঁয়াজু, ছোলা ভুনা ইত্যাদি। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় এক টাকার সিঙ্গারা ও ৬ টা আইটেম একত্রে মিশিয়ে তৈরী করা প্যাকেজ। প্যাকেজ মূলত তৈরী করা হয় সিঙ্গারা, আলুর চপ, ছোলা ভূনা,পিয়াজু,ও বেগুনির চপ। ব্যাবসায়িদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে এক টাকায় আলুর চপ ও ২ টাকায় আকারে একটু বড় সিঙ্গারা ও বিক্রি হয়।

বিক্রিতাদের একজন অসিত কুমার সাহা জানান, তিনি প্রায় পঁচিশ বছর এই বাজারে সিঙ্গারাসহ অন্যান্য তেলে ভাঁজা পণ্য বিক্রি করছেন। শুরুর দিকে একটি সিঙ্গারা বিক্রি হোতো পঁচিশ পয়সায়। ধাপে ধাপে সেটি বেড়ে গত সাত আট বছর ধরে বিক্রি হচ্ছে এক টাকা করে।

তিনি বলেন, ‘দামে সাশ্রয় ও সুস্বাদু হওয়ায় মানুষের কাছে এই ছোট সিঙ্গারার ব্যাপক চাহিদা। লাভ সীমিত হলেও বেশি বিক্রি হয় বলে আমাদের পুষিয়ে যায়’।

অসিত কুমার সাহার এই দোকানে পণ্য গুলো তেলে ভাজার কাজটি করেন তার ছেলে অভি কুমার সাহা।সে জানায়, সপ্তাহের পাঁচ থেকে ছয়দিন দুপুর দুইটা থেকে রাত আঁটটা পর্যন্ত ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বেচা কেনা চলে। প্রতিদিন গড়ে ছয়শো থেকে সাতশো সিঙ্গারা বিক্রি হয়। এর পাশাপাশি আলুর চপ, ছোলা ভুনা ও পেঁয়াজু, জিলেপিসহ অন্যান্য খাবারও বিক্রি হয়। ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে হাটের দুই দিন শনিবার ও বুধবারে।

শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামের চাকরিজীবি আকরাম সহ কয়েক জন অসিত সাহার দোকানেে বসে নাস্তা করছিলো তিনি জানান, আমার আত্নীয় স্বজন ও অফিসের লোকজন প্রায়ই আমাকে বলেন গাঙনালিয়া বাজারের ১ টাকার সিঙ্গারা অথবা ১০ টাকার প্যাকেজ খেয়ে এসো, খেলে দেখবা কি মজা!

তাই আজ অসিত দাদার দোকানে খেতে বসেছি, ১ টাকার সিঙ্গারাা বেশ কয়েকটি খেয়েছি আবার ১০ টাকার প্যাকেজ ও খেয়েছি, ২ টা আইটেমই বেশ ভালো লাগলো। বাড়ির জন্য ও নিয়ে যাচ্ছি৷

সাইফুল্লাহ/এএস