বাঙ্গালী জাতির সবচেয়ে বড় উৎসব বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ময়মনসিংহে বিভিন্ন সংগঠন পালন করছে নানা কর্মসূচি। আবহমান বাংলার জীবন প্রবাহের দৃশ্যপট নিয়ে “শেকড়ের সাথে আছি হেঁটে যাবো শিখরের দিকে, বাঙ্গালীর চেতনাকে কারা করে ফিকে!“’ এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জেলা প্রশাসন ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের যৌথ উদ্যোগে ময়মনসিংহে বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

গ্রামীণ জীবনের অসংখ্য অনুসঙ্গকে শোভাযাত্রায় তুলে ধরা হয়। শোভযাত্রায় পথেপথে যেমন লাঠি খেলা হয়, তেমনি থাকে রাজা-বাদশা, উজির-নাজির, মন্ত্রী-সেপাই, সৈন্য-সামন্ত, অশ্বারোহী ও পদাতিক যোদ্ধা, পাইক-বরকন্দাজ মিলিয়ে শতাধিক মানুষ, গ্রামীণ কৃষি ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকান্ড দিয়ে শোভাযাত্রাকে সজ্জিত করা হয়েছে। শোভাযাত্রায় হাজার হাজার মানুষের অংশ গ্রহণে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার সকালে শহরের মুকুল নিকেতন স্কুলের সামনে বণার্ঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। এসময় জেলা প্রশাসক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুক, বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক আমীর আহম্মেদ চৌধুরী রতন, পৌর মেয়র ইকরামূল হক টিটু, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর রহমান খান মিল্কী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, জাসদ নেতা অ্যাডভোকেট সাদিক হোসেন, সাংবাদিক জিয়াউদ্দিন আহমেদ, জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু, অ্যাডভোকেট আব্দুল মোত্তালেব লালসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারিসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ বর্ষবরণের শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন। পরে শোভাযাত্রাটি শহরের কৃষ্ণচুড়া চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী সাহেব কোয়ার্টার পার্কে বৈশাখী মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ব্র‏হ্মপুত্র নদের তীরবর্তী সাহেব কোয়ার্টার পার্কে বেড়াতে আসা সাধারণ মানুষের অনেকেই বলেন, বাঙ্গালী জাতির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। এদিনে সকল ধর্ম, গোত্র, দল ভেদাভেদ ভুলে সকলে একত্রিত হয় এ মিলন মেলায়। আজকের দিন থেকে শিক্ষা নিয়ে সারা বছর সবাই ভাতৃত্বের বন্ধনে থেকে সকলে মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

জেএ