বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে চীন থেকে ঋণ নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ২৭৪ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি সই হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন। বিদুৎ সঞ্চালন ও বিতরণের ২২ প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে চাহিদার দেড়গুণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন না হওয়ায় নাগরিক দুর্ভোগ কমছে না।

এবারের বাজেটেও এ খাতের উন্নয়নে বেশি অর্থ বরাদ্দ রেখেছে সরকার। আবার অন্যদিকে বিনিয়োগকারী দেশগুলোকেও এ খাতে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন চীন সফরে রয়েছেন। বিদ্যুৎ খাতের চুক্তির জন্য চীনে গেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, ২৭৪ কোটি ডলারের মধ্যে ১০৬ কোটি ডলার ঢাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এ জন্য আলাদা ১০টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি)। বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য ভূগর্ভস্থ বিতরণ লাইন নির্মাণ, নতুন সাবস্টেশন নির্মাণ ও সাবস্টেশন সংস্কারে এ অর্থ ব্যয় করবে তারা।

এ ব্যাপারে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণ চুক্তি সই হবে। আমাদের চীনা এক্সিম ব্যাংক ১০৬ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করার কাজে যে অর্থ ব্যয় হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ১৩২/৩৩/১১ কেভি গ্রিড সাবস্টেশন, ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন নির্মাণ এবং ১৩২/৩৩ কেভি ও ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে। চীনা অর্থায়নে ডিপিডিসি ২১৮ সার্কিট কিলোমিটার ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন, ২৩৩ সার্কিট কিলোমিটার ৩৩ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন, ৫৮২ সার্কিট কিলোমিটার বিতরণ নেটওয়ার্ক, ১১৫ সার্কিট কিলোমিটার ১১/০.৪ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। এর বাইরেও একটি ২০-তলা ভবন, আধুনিক ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডিপিডিসি।

২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ঢাকা সফরে আসেন। ওই সময় ঢাকা সফরে চীন বাংলাদেশে মধ্যে বিদ্যুৎখাতের যেসব সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল তার মধ্যে পিজিসিবি ও ডিপিডিসির ঋণের বিষয়টি ছিল। তবে দীর্ঘ ৩২ মাস পর এই ঋণের চুক্তি হতে যাচ্ছে।

এএস