আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এতিমের টাকা চুরি করে খালেদার এখন পালাই পালাই ভাব।
রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আজ বিকেলে জাতীয় জেলহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, যদি খালেদা অপরাধ নাই করতো তাহলে তিনি কোর্টে হাজিরা দিতে ভয় পান কেন? অপরাধ করেছেন তাই জেলে যাবার ভয়ে তিনি কোর্টে হাজির হন না।
কালো টাকা সাদা করে, এতিমের টাকা চুরি করে, বিদেশে টাকা পাচার করে এখন খালেদার পালাই পালাই ভাব বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোটের অধিকার এদেশে ছিল না। কিন্তু জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের ভোটের অধিকার দিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানের আলোকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোটের অধিকার ছিল না। কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোটের অধিকার দিয়েছিল।
এদেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের ধারা জিয়া চালু করেছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা আরো বলেন, সেই একই ধরা চালু রেখেছে খালেদা।
তিনি আয়নায় নিজেদের আসল চেহারা, আসল রুপটা দেখার জন্য বিএনপি-জামায়াতের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, তারা এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান মারা যাবার পর ভাঙ্গা সুটকেস ও ছেড়া গেঞ্জি ছাড়া কিছু ছিল না-এমন কথা শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। অথচ পরে দেখা গেল সেই সময়ের ১০ লাখ টাকার ব্যাংক একাউন্ট।
এদেশের সম্পদ আরেক দেশের হাতে তুলে দেয়ার মুচলেকা দিয়ে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ পোড়ানো ও ভাঙচুরের মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতা দখলই বিএনপি-জামায়াতের কাজ।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেনাবাহিনীর শত শত অফিসারের চাকরি খেয়েছিল, শত শত অফিসারকে রিটায়ার্ড না করা পর্যন্ত ওএসডি করে রেখেছিল।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে উন্নয়নের রাজনীতি শুরু করে। আর তারই ফলে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোড মডেল।
শেখ হাসিনা বলেন, তার বাবা নিশ্চয়ই জান্নাতে বসে দেশের উন্নয়নের এই দৃশ্য দেখছেন, জাতীয় চার নেতা এই দৃশ্য দেখছেন। তাদের আত্মা শান্তি পাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, মেয়েদেরকে ধরে ধরে গ্যাং ধর্ষন করেছিল বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। এমন কোন জায়গা নেই যেখানে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা ৬ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধদের ধর্ষণ করে নাই।
পুলিশ এসে একসাথে হাত মিলিয়ে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছিল দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, শত শত মানুষকে গুম করা হয়েছিল। পরিবারও জানতো না যাদের ধরে নেয়া হচ্ছে তারা কোথায় আছে, কিভাবে আছে। অনেককেই মৃতপ্রায় অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেলে রাখা হয়েছিল যাদের অনেকেই সেখানে মারা যায়।
কেবি





