ভারত থেকে আসা পানিতে বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার ১৫ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, ভারতে বন্যা দেখা দেয়ায় ওই দেশের পানি এখন বাংলাদেশের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তিস্তা, সানিয়াজান, ধরলা, বুড়ি তিস্তা ও সতী নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম ছিটমহলসহ গোটা জেলার ১৫ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা দোয়ানি-ডালিয়া শাখার সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান জানান, ভারত থেকে প্রচণ্ড গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। এতে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ব্যারাজের উজান ও ভাটিতে অসংখ্য গ্রামের মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সোমবার সকাল থেকে তিস্তা ব্যারাজের সব গেইট খুলে দিয়ে পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, ভারতে বন্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে যে কোনো মুহূর্তে তিস্তার পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

সূত্র জানায়, জেলার পাটগ্রাম উপজেলার আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম ছিটমহল, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী, সদর উপজেলার ১৫ গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে হাতীবান্ধা উপজেলা চারটি ইউনিয়নে। হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খতিব উদ্দিন, পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সফিয়ার রহমান, সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম জি মোস্তফা ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বাবলা জানান, তাদের ইউনিয়নগুলোর বেশ কিছু এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় ত্রাণ বিতরণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

পানিবন্দি লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার মধ্য রাত থেকেই তারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জানানো হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের মাঝে কোনো খাবার বা ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তিনি বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ খবর নিচ্ছেন। ত্রাণের জন্য উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে।