পেশাগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার, বলে মন্তব্য করেন শ্রমও কর্মসংস্থান সচিব মিকাইল শিপার।

ওশি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিশ্ব পেশাগত নিরাপত্তাও স্বাস্থ্য দিবস ’১৫ উদযাপন উপলক্ষে রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে‘‘পেশাগত নিরাপত্তাও স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রতিরোধ মূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে একত্রিত হই বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

মিকাইল শিপার বলেন, শোগত নিরাপত্তাও স্বাস্থ্য সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা শ্রমিকের অধিকার। এটা শুধু কারখানার মালিক পক্ষের দায়িত্ব নয়। শ্রমিকদের ও এ ব্যাপারে নিয়োগ কর্তারপ্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। এছাড়া সরকার বিভিন্ন এনজিও, সুশিল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণেরও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

সচিব আরও বলেন, পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার পর‌্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা শ্রমিকের অধিকার। এটা শুধু কারখানার মালিক নয় শ্রমিককে সচেতন হতে হবে।

ওশি’র সহকারি পরিচালক মো. ওমর ফারুক আইএলও তথ্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে ২০০৫-২০১৪ (৯ বছর) কর্মক্ষেত্রে (পেশাগত ও স্বাস্থ্যগত) দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১২ হাজার ২৬০ জন শ্রমিক।

আহত হয়েছে ১৭ হাজার ১৮৩ জন। মোট হতাহত হয়েছে ২৯ হাজার ৪শ ৪৩ জন শ্রমিক। ২০১৫ সালে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে নিহত হয়েছে ২৮৮ জন শ্রমিক।

তিনি বলেন, বিশ্বে প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে দূর্ঘটনায় নিহত হয় ৬ হাজার ৪শ শ্রমিক। প্রতিবছর নিহত হয় ২.৩ মিলিয়ন। এরমধ্যে ২ মিলিয়ন নিহত হয় রোগে।

নিরাপত্তার অভাবে ৩১৩ মিলিয়ন দূর্ঘটনা ঘটে। অসুস্থ হয় ১৬০ মিলিয়ন। কর্মপরিবেশ ও দূর্ঘটনার কারণে বছরে বিশ্ব জিডিপি’র ৪ শতাংশ ক্ষতি হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৮.৭ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের অবদান। সেখানেও নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে তদারকি নেই।

অকুপেশনাল সেইফটি এন্ড হেলথ (ওএসএইচ) আইন-২০১৩ এর বিধিমালা প্রণয়ন, শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে কল-কারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিপ্তরের মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহমেদ বলেন, কর্মক্ষেত্রে পেশাগত ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা জরুরি।

বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে ভবন, অগ্নি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির জন্য সরকার ও মালিক দায়ি। নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

গার্মেন্টস খাত নিয়ন্ত্রণ না করায় সবচে বেশি দূর্ঘটনা ঘটছে, নিহত হচ্ছে শ্রমিক। বিশেষ করে স্পেকটার্ম, তাজরিন ফ্যাশন। সর্বশেষ রানাপ্লাজা।

তিনি বলেন, রানাপ্লাজা ধসের ৭২ দিন পরই শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে। কারখানা ও শ্রমিকের নিরাপত্তা মাথায় রেখেই বাড়ানো হয়েছে পরিদর্শন।

শুধু গার্মেন্টস নয় সব অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানেও পরিদর্শন বাড়ানো হয়েছে। পেশাগত নিরাপত্তা বিষয়ে সরকার খুবই সচেতন বলে জানান তিনি।

সেমিনারে ওশি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন সাকী রিজওয়ানার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিসিআইসি’র পরিচালক (অব.) আবুল বাশার, বাংলাদেশ অকুপেশনাল সেইফটি বোর্ড উপদেষ্টা প্রকৌশলী লুৎফুল বারী প্রমূখ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে ওশি’র সহকারি পরিচালক মো.ওমর ফারুক বলেন, আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থা‘র সূত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে মোট ১২২৬০ জন শ্রমিক নিহত হয়। এছাড়া আহত হয় ১৭১৮৩ জন।

এছাড়া প্রতি বছর ২.৩ মিলিয়নেরও বেশি কর্মসংশ্লিষ্ট প্রাণ হানি ঘটে, ১৬০মিলিয়নের ও বেশি কর্মসংশ্লিষ্ট অসুন্থায় আক্রান্ত হয়। এছাড়া দুর্ঘটনা বা অসুন্থায় মারা যায় ৬৪০০ মানুষ।

তিনি নিরাপত্তাও স্বাস্থ্য সংস্কৃতি সৃষ্টিতে আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থা, সরকার, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক এবং ওশি বিশেষজ্ঞদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

সেমিনারে আরো উপস্তিত ছিলেন, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সভাপতি শাহ মোহম্মাদ আবু জাফর, কাজী সাইফুদ্দিন প্রমূখ।

এমএ/এসএইচ