পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বর্তমানে দেশে বন ভূমির পরিমাণ ১৩ শতাংশ।

আজ সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বন ভূমি থাকা প্রয়োজন। তবে এটি নির্ভর করে ভূ-প্রকৃতির ওপর। পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তা বিবেচনায় ১২ শতাংশ পাহাড়ি, সমতল ও সুন্দরবন মিলে ১৫ শতাংশ বন ভূমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ ১৫ শতাংশ বনায়ন করা সম্ভব হবে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. আব্দুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত ৫ বছরে পরিবেশ দূষণের দায়ে ৩৩২টি মামলা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলাগুলোর মধ্যে ১২৬টি নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ২০৬টি মামলা অমীমাংসিত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৫৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী পরিবেশ আদালত ও স্পেশাল কোর্টে পরিবেশ দূষণকারীর বিরুদ্ধে মামলা করার বিধান রয়েছে। আগে দেশে ৩টি পরিবেশ আদালত (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট) ছিলো। সংশোধিত পরিবেশ আইন ২০১০’র পর সব জেলায় পরিবেশ আদালত ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়। এই আইনের সংশোধনের ধারাবাহিকতায় দেশের সব জেলায় স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপনের গেজেট জারি করা হয়েছে। সব জেলায় পরিবেশ আদালত স্থাপনের গেজেট জারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান ৩টি পরিবেশ আদালত গত ৫ বছরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৭১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৬টি, অমীমাংসিত ৪৫টি। ২০১০ সালে মামলা ৮১টি, নিষ্পত্তি ১৯টি, অমীমাংসিত ৬২টি। ২০১১ সালে মামলা করা হয় ৮৮টি, এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৩টি, অমীমাংসিত ৭৫টি। ২০১২ সালে ৪৮টি মামলা হয় যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৫টির, অমীমাংসিত ৪৩টি। ২০১৩ সালে ৩৮টি মামলা হয়, এর মধ্যে একটিও নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের মে পর্যন্ত ৬টি মামলার সবগুলোই অমীমাংসিত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের জনবল স্বল্পতা ও আদালত থেকে মামলা সম্পর্কিত কাগজপত্র প্রাপ্তি বিলম্ব এবং সাক্ষীর অনিশ্চয়তার কারণে মামলা নিষ্পত্তির হার কম।

সরকারি দলের বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে ই-বর্জ্য একটি অন্যতম আলোচ্য বিষয়। ইলেকট্রনিক সামগ্রির উত্তরোত্তর বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যেই ‘ই-ওয়েস্ট বিধিমালা ২০১৪’প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এ বিধিমালাটি চূড়ান্ত খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।

ঢাকা, ২২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ