রংপুরে বিভিন্ন কারখানায় কোন রকমের অনুমোদন ছাড়াই চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের খাদ্য ও মিষ্টি তৈরির নানান সামগ্রী।

সেখানে দুগ্ধ শীতলিকরণের নামে সরকারের অনুমোদন ছাড়াই গোপনে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন শিশুখাদ্যসহ নানান জাতের ভেজাল আইসক্রিম, দই, ঘি ও মাওয়া কারখানা।

অনুসন্ধানে যানা গেছে, অনুমোদনহীন ওই কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা খালি গায়ে, অপরিস্কার ও স্যাঁতসেতে দুর্গন্ধময় স্থানে তৈরী করছে শিশুখাদ্য চকবার, মিল্ক আইসক্রিম, বাটি আইসক্রিম।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিক কারিগরদের পরনে নেই এ্যাপ্রোন, হাতে নেই হ্যান্ডগ্লোবস, মাস্ক ও হেডক্যাপ।

সোমবার সরেজমিন রংপুর মহানগরীর জি.এল.রায় রোড-সাতমাথা সড়কের পশ্চিম খাসবাগ জামে মসজিদ সংলগ্ন নকল কারখানায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে প্রবেশপথে দরজা উদম করা কাচা ল্যাট্রিন।

ল্যাট্রিনঘেষা সম্পুর্ণ টিনশেড বেড়ায় আবৃত আলো-বাতাসহীন টিনের ছাপড়ায় মহিলা ও পুরুষ শ্রমিকরা উন্মুক্ত ড্রাম থেকে খালি হাতে প্লাস্টিক মগ ডুবিয়ে চকলেটের পুটিং বের করে সাদা আইসক্রিমে প্রলেপ দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে শিশুদের মূখরোচক খাবার চকবার।
আর এই কাঠফাটা রোদে ও গ্রীষ্মের দাবদাহ গরমে খালি গায়ে শ্রমিকদের শরীর থেকে বৃষ্টির মতো ঘাম ঝড়ে পড়ছে দই ও ছানার ট্রেতে।

এ সময় দেখা যায়, দই তৈরীর জন্য বহু আগে প্রস্তুতকৃত দুধের পসরা হাজার হাজার মাছির দখলে। এর পাশে খোলা ঘরে তৈরী করা ছানার ঘি ও মাওয়া ধারার বেড়া দিয়ে বাতাস পাওয়ার জন্য নেটবিহীন উন্মুক্তভাবে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে।

এছাড়া তৈরী করা আইসক্রিমগুলো দেশের নামকরা ও প্রসিদ্ধ কোম্পানীগুলোর নকল করা মোড়কে প্যাকেটজাত করে কালার মিলিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। সেসব নামকরা আইসক্রিম আইটেমের মধ্যে পোলার, কোয়ালিটি, মিল্কভিটা, ডেইরি মিল্ক এবং জাল মোড়কে মাটি ও প্লাস্টিকের পাত্রে বিভিন্ন কোম্পানীর নামে বিভিন্ন প্রকারের দই।

এ সময় আরো দেখা গেলো ময়লা এবং গন্ধযুক্ত ড্রামে মজুদ করা ছানা ও দুধে মাছির ভনভনানি, সেইসাথে সেখানে অসংখ্য মশা-মাছির লাশ পড়ে রয়েছে।

এ ব্যাপারে ভাই-বোন দুগ্ধ শীতলিকরণ কারখানার স্বত্বাধিকারী রবিউল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মাত্র ৩/৪ মাস হচ্ছে আইসক্রিম, দই ও সেমাই কারখানা শুরু করেছি। কাগজপত্র এখনো করি নাই, করবো। আপাতত বাজারজাত করে দেখছি কেমন চলে।

কোনো অনুমোদন ছাড়া অন্য কোম্পানীর মোড়ক নকল করে আইসক্রিম, দই বাজারজাত করা ঠিক করছেন কি না, জবাবে তিনি বলেন আমি নতুন শুরু করেছি, কাগজপত্র পরে করবো।

এআই/