বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনা মসজিদ তিন সপ্তাহের বেশি সময় অচল থাকলেও এখন সচল হতে শুরু করেছে। যৌথবাহিনীর অভিযান ও ২টি অস্থায়ী ক্যাম্প বসানোর পরই বন্দরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে শুরু করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাহারায় বন্দর থেকে এখন প্রতিদিন পণ্যবোঝাই ট্রাকের বহর দুর্বৃত্তদের কোনো হামলা ও বাধা-বিপত্তি ছাড়াই দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। অবরোধ-হরতালে এ স্থলবন্দরে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও ফিরতে শুরু করেছে কর্মচাঞ্চল্য।
বন্দর সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর থেকে আমদানীকৃত পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবার পথে শিবগঞ্জের মুসলিমপুর, ধোবড়া, কানসাট, রুসুলপুর ও লালাপাড়ায় অবরোধকারীরা দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, পেট্রোল বোমা ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাহারায় যাওয়া ট্রাকের বহরেও ককটেল, পেট্রোল বোমা হামলা ও ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। টানা অবরোধের ১ম সপ্তাহে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক ও ভোলাহাট-গোমস্তাপুর সড়কে অন্তত ১৫টি ট্রাক ও পিকাপভ্যানে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
সূত্র আরও জানায়, এসব হামলা-ভাঙচুরে আহত হয় অন্তত ১৫ জন চালক, হেলপার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় গত ১০ জানুয়ারি থেকে ভারতীয় পণ্যবোঝাই ট্রাক প্রবেশ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলে সোনামসজিদ স্থলবন্দর অচল হয়ে পড়ে।
বন্দর সূত্র আরও জানায়, বন্দরের এমন অচল অবস্থায় গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিজিবি অধিনায়ক, র্যাব অধিনায়ক, বন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার, পানামার ব্যবস্থাপক, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আমাদানীকারক প্রতিনিধি, সিএন্ডএফ প্রতিনিধি, শ্রমিক সমন্বয়ের প্রতিনিধি ও ভারতের মোহদীপুর রপ্তানীকারক গ্রুপের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও পণ্য পরিবহনে সকল ধরণের নিরাপত্তার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আবারও সোনা মসজিদ বন্দরে ভারতীয় পণ্যবোঝাই ট্রাক প্রবেশ করে। এ মনকি ওইদিন থেকে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন অবরোধ আহবানকারী অধ্যূষিত শাহবাজপুর কলেজ ও কানসাট সোলেমান আলী ডিগ্রি কলেজে ২টি অস্থায়ী ক্যাম্প বসানোর পর ট্রাক বহরে হামলার ঘটনা কমতে থাকে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএম ময়নুল ইসলাম জানান, সাধারণ মানুষের জানমাল ও সোনামসজিদ বন্দর থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিঘ্নে যাবার বিষয়টি নিশ্চিত করতে যৌথবাহিনী অভিযান শুরু করলে নাশকতার কাজে লিপ্ত দুস্কৃতিকারীরা নাশকতার সাহস পাচ্ছে না। এমনকি তাদের থানা ভিত্তিক পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকায় তারা পাকড়াও হচ্ছে।
সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সোহেল আহম্মেদ পলাশ বলেন, ‘প্রায় ১০ দিন বন্ধ থাকার পর প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমদানীকারকরা আবারো সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে পণ্য আনা শুরু করেছে এবং প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্দর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাহারায় নির্বিঘ্নে পণ্যবোঝাই ট্রাক ছেড়ে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে।’
সোনা মসজিদ স্থলবন্দর পরিচালনায় নিয়োজিত বেসরকারি পানামা পোর্ট লিংকের ব্যবস্থাপক প্রবীর কুমার শীল বলেন, ‘বন্দরে এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে প্রায় ৩শ ৭০ টি পণ্যভর্তি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেছে।’
তিনি আরও জানান, ১৯ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ হাজার ৯শ ৪৭ পণ্যবোঝাই ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ এবং বন্দর থেকে প্রায় ২ হাজার ২শ ট্রাক পণ্যবোঝাই করে বন্দর ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গেছে।
বন্দর শ্রমিক সমন্বয়ের সাধারণ সম্পাদক নেতা আমিনুর রহমান জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযান ও ২টি অস্থায়ী ক্যাম্প বসানোর পর থেকে পণ্যবাহী ট্রাকের বহরে তেমন কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। এতে ট্রাক চালকদের মধ্যে অনেকাংশে ভীতি কমে যাওয়ায় ট্রাক ভাড়া অনায়াসে পাওয়া যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের এক আমদানীকারক জানান, টানা অবরোধ ও হরতালের সংহিসতার কারণে ব্যবসা বাণিজ্য একেবারে লাটে উঠেছিল। বর্তমানে আমরা কিছুটা স্বস্তিতে আছি।
জেআই





