চাঁদপুর পৌর এলাকায় ৫৮টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি ভবন, যা এখনই ভেঙে ফেলা প্রয়োজন। ভূমিকম্প হলে এগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রোববার চাঁদপুর পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কর্তৃপক্ষ আরও আরও জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ বভনগুলোর মধ্যে ৪০টি ভবন মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৮টি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখনো বসবাস করছে মানুষ। একইসঙ্গে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি ভবনেও মানুষের বসবাস রয়েছে। ব্যবহার অনুপযোগী, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত এমন ভবনের সংখ্যার বেশিরভাগ রয়েছে পুরাণবাজার এলাকায়। পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের রেলওয়ের প্রায় সবগুলো দালান ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

অল্প জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করে বেশি মানুষের আবাসনের স্থান তৈরি হচ্ছে অনেকদিন আগে থেকে। কম খরচে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে দেশে অহরহ ঘটছে ভবন ধসের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ২০১৩ সালে ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধসের পরপরই সরকার দেশজুড়ে ব্যবহারের অনুপযোগী দালানের ওপর জরিপ চালানোর কাজ শুরু করে। এর অংশ হিসেবে চাঁদপুর পৌরসভা জরিপ করে অতি ঝুঁকিপূর্ণ, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করছে এমন ভবন চিহ্নিত করেছে।

এগুলোর মধ্যে পালবাজার সংলগ্ন দালান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কে গিরিধাম, জেলা শিল্পকলা একাডেমি লাগোয়া বেগম ইন্ডাস্ট্রিজ, জেলা আওয়ামী লীগ অফিস, নিশি বিল্ডিং সংলগ্ন সদর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস, জাতীয় মহিলা সংস্থা, নবী স্টোর, পুরানবাজারের মিয়াজী ভবন, শেখ মঞ্জিল, পোস্ট অফিস, বাতাসা পট্টির ৪০১নং হোল্ডিংয়ের ২য় তলা দালান রয়েল স্টিল, ৪৬৮ ও ৪৬৯ হোল্ডিং নং এর নান্নু খানের দুটি গুদাম ঘর, এবায়েদুল্লা সরকারের দ্বিতলা দালান ঘর, পুরাণবাজার পৌর দাতব্য চিকিৎসালয়, জাফরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টিঅ্যান্ডটি কলোনীর ৪টি ভবন এবং অতিথি হোটেলে মানুষ বসবাস করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেশ কিছু পুরনো ভবন ও ৬০ দশকে নির্মিত চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইন্সস্টিটিউট নদীকেন্দ্রের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ৫টি ভবন বসবাসের অনুপযোগী বলে জানা গেছে। ওই ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও ঝুঁকি নিয়ে সেখানে বসবাস করছে ইন্সস্টিটিউটের কর্মচারীরা। বর্তমানে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের দেয়ালের প্লাস্টার খসে খসে পড়তে দেখা গেছে। এছাড়া দেয়ালে দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।

অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো এখনই ভেঙে ফেলা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন, চাঁদপুর পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. সাজ্জাদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, এসব ইমারতগুলো অনেক পুরনো, যা তৈরি করা হয়েছিল শুধু ইট-সুরকি দিয়ে। বর্তমানে এসব ভবন সম্পূর্ণ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাঝারি ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো এখনই আবার সংস্কার করা প্রয়োজন।’

ভূমিকম্পে এসব জরাজীর্ণ ভবনগুলো ধসে পড়লে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত পৌর এলাকার এক বা দুই দশক আগে নির্মিত ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার দাবিও তাদের।

জেআই