সিলেটে হযরত শাহজালাল’র (র.) মাজারের ৬৯৫তম বার্ষিক ওরস শুরু হচ্ছে সোমবার। শাহজালালের মাজারে দুই দিনব্যাপী ওরসে আগতদের মিলনমেলা সোমবার শুরু হয়ে চলবে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ভক্ত আশেকানরাও আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে এসে পৌঁছেছেন।

মহামিলনমেলা সফল করতে মাজার কমিটি ছাড়াও সিলেটের প্রশাসন সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ওরসকে কেন্দ্র করে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

সিলেট মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, ওরস চলাকালে মাজারের নিরাপত্তায় সাড়ে ৭শ’ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা মাজার এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।

ওরসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে মাজার কর্তৃপক্ষের ১৬টি সিসি ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে আরও ৫-৬টি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিবছর ১৯ ও ২০ জিলক্বদ এ আধ্যাত্মিক সাধকের ভক্ত আশেকানরা বার্ষিক ওরসের আয়োজন করে থাকেন। এবার ৬৯৫তম ওরস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওরসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সোমবার বাদ মাগরিব থেকে পশু জবাই, পরদিন সকাল ৯টা থেকে মাজারে গিলাফ ছড়ানো। রাতে শফিনা খতম, কোরাআন খানি, জিকির আজকার, এরপর ভক্তিমূলক গজল ও রাত তিনটায় আখেরি মোনাজাত শেষে ভোরে শিরনি বিতরণ।

হযরত শাহজালাল (র.) মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামুন মাহমুদ খান বলেন, ওরসে আগত অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি ভক্ত আশেকানদের সমন্বয়ে আড়াই হাজার সদস্যের স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তাকর্মী কাজ করবেন। এছাড়া কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবার জন্য মেডিকেল দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগের আলাদা দুটি দল ওরস চলাকালে মাজার এলাকায় সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবে।

এছাড়া ওরসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাজার কমিটির পক্ষ থেকে ১৬টি সিসি ক্যামেরা ও পুলিশের পক্ষ থেকেও আরও ৫-৬টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। মাজারের ওরস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সবকিছু পরিচালিত হবে।

এদিকে ওরস উপলক্ষে হাজার হাজার ভক্তের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে সিলেট নগরী। আর এ সুযোগে আবাসিক হোটেলগুলোও ভালো ব্যবসা করছে। ইতোমধ্যে সিলেট নগরীর সকল আবাসিক হোটেল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে সিলেটে আগত ভক্ত আশেকানরা নিজেদের স্বজনদের বাসাবাড়িতে উঠছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করছেন থাকার জন্য। আগেই যে সকল ভক্ত আশেকান সিলেটে পৌঁছেছেন তারা হাতে থাকা ওরসপূর্ব সময়ে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখছেন।

ওরস উপলক্ষে মাজারের সৌন্দর্যবর্ধন কাজও শেষ হয়েছে। এছাড়া মাজার এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সাড়ে ৭শ’ সদস্য পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ১০ সেপ্টেম্বর থেকে মাজার এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। ওরসে মাজার এলাকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর এসএমপি সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশ প্রশাসন ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও মাজার কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই