রাজনৈতিক দলের সবপর্যায়ের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্বের অগ্রগতি তথ্য জানাতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে এ তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ২০১৬ সালের আয়-ব্যয়ের হিসেব জমা দিতে চিঠি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দলগুলোর মহাসচিব/সাধারণ সম্পাদকের কাছে আলাদ চিঠি দু’টি পাঠানো হয়েছে।
ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ২০২০ সালের দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্ব রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দলগুলো নিবন্ধন নেওয়ার সময় এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। আমরা বিধানটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে দলগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছি। সেই সঙ্গে এ পর্যন্ত অগ্রগতি জানাতে দলগুলোকে অনুরোধ করেছি।
আরপিও’র ৯০-এর খ-এর খ(২) অনুচ্ছেদে, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ রাজনৈতিক দলের সকল স্তরের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ সদস্যপদ নারী সদস্যদের জন্যে সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং এই লক্ষ্যমাত্রা পর্যায়ক্রমে আগামী ২০২০ সাল নাগাদ অর্জন করার কথা বলা হয়েছে।
২০০৮ সালে নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর ২০২০ সালের মধ্যে পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১৫ শতাংশও নারী সদস্য পূরণ করতে পারেনি বলে জানা গেছে।
৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন
এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে ৪০টি নিবন্ধিত দলকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা জানান, চিঠিতে ২০১৬ সালের অডিট রিপোর্ট রেজিস্টার্ড চাটার্ড একাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করে ইসিতে জমা দিতে বলা হয়েছে। দলের মহাসচিব বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদনে অডিট কোম্পানি এবং দলের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর বা সিলমোহরসহ নির্ধারিত ছকে আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ (১) (সি) ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত কোনো দল যদি পরপর তিন বছর কমিশনে তথ্য প্রদান করতে ব্যর্থ হয় তবে সে দলের নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রয়েছে ইসির।
৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আর্থিক বিবরণী জমা দেওয়ার কথা তাগিদ দিলেও প্রধান দলগুলো বরাবরই তা জমা দিতে সময় বাড়াতে বলে। গতবারও আগস্টে আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে।
গেল বছর বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সব ব্যয় মিটিয়ে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দলীয় তহবিলে যোগ করতে পেরেছে। আর বিএনপি আগেরবারের ধারাবাহিকতায় সোয়া ১৪ লাখ টাকা ঘাটতির কথা জানায় ইসিকে।
এমবি





