চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুল ইসলাম ভুঁইয়াকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগর পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল জলিল মণ্ডল এ আদেশ দেন।
নগর পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল জলিল মণ্ডল বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ ওঠায় সদরঘাট থানার ওসি মাঈনুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দামপাড়া পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। ওই থানার পরিদর্শক তদন্ত মর্জিনা আক্তার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ঘটনার পাঁচ দিন পর কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো প্রশ্ন করা হলে পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওসিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে যথাযথ সাক্ষ্য প্রমাণ পেলে পরবর্তীতে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে তাকে ক্লোজড করা হয়েছে শুনেছেন জানিয়েছে ওসি মাঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
১৯ মার্চ বিকেলে সদরঘাট এলাকায় আল ইসলামিয়া হোটেলে ঢাকা থেকে আসা এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক পরিবেশবিষয়ক উপসম্পাদক আবদুর রহিম। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। আত্মীয়ের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী দুজন আলাপ করার সময় সদরঘাট থানার ওসি মাঈনুল ইসলাম সেখানে যান। অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে মারধর করেন ওসি। একপর্যায়ে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যান। থানায় নিয়ে এসআই সালেকসহ আরও দুজন পুলিশ বাদীকে মারধর করেন।
ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে আটক করে মারধর করার প্রতিবাদে ওই দিন বিকেলে নেতা-কর্মীরা সদরঘাট সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের একটি ব্রেকার ভাঙচুর করা হয়। পরে আবদুর রহিমকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে ওসি মাঈনুলকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
সর্বশেষ গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ ফরিদ আলমের আদালতে ওসি মাঈনুলসহ চারজনের বিরুদ্ধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন আবদুর রহিম। আদালত পুলিশ কমিশনারকে মামলাটি গ্রহণ করে সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি অঞ্চল) তদন্তের নির্দেশ দেন।
গত বছরের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে নগরের খুলশী থানার ওসি ছিলেন মাঈনুল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এম আর





