সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদকে বিশ্বব্যাপী সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সৌদি বাদশাহ যে উদ্যোগ নিয়েছেন ও জোট গঠন করেছেন তার সাথে আমরা আছি। তিনি সৌদি বাদশাহকে ধন্যবাদ জানান।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ (বৃহস্পতিবার) বিকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উলামা-মাশায়েখ মহা-সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব মন্তব্য করেন।
মহা-সম্মেলনে সৌদি আরব থেকে আসা উলামাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সৌদি আরব সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার সাথে শুরু থেকেই আমরা ছিলাম এবং থাকবো।
প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, যারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সাথে জড়িত তারাই মুখে ইসলামের কথা বলে। এটা অত্যন্ত জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। এখানে অন্যান্য ধর্মের লোকও আছেন। আর ইসলাম ধর্মের শিক্ষা হলো- ধর্মের ব্যাপারে কোন বাড়াবাড়ি চলে না।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা ইসলাম ধর্ম নিয়ে কথা বলে ও মানুষ হত্যা করলেই বেহেশতে যাবে বলে প্রচার করে তারা ভুল পথে আছে। একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানকে বোমা মেরে হত্যা করে কিভাবে তারা হিসেব করে যে তারা জান্নাতে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম মানবতাবাদে বিশ্বাস করে, শান্তিতে বিশ্বাস করে, ভ্রাতৃত্ববোধ শিক্ষা দেয়। ইসলাম শিক্ষা দেয় যে কেউ যদি এতিম হয়, দু:স্থ হয় ও অসহায় হয় তাদের সহায়তা করতে হবে।
তিনি মসজিদের ইমাম ও উলামা-মাশায়েখদের প্রতি আহবান জানান, তারা যেন ইসলাম ধর্মের শান্তির বাণী প্রচার করেন এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম হত্যায় বিশ্বাস করে না। আজকে মুসলমান আরেক মুসলমানকে হত্যা করে ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদকে জুড়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে তাদের কোন ধর্ম নেই, তাদের কোন সীমানাও নেই, জঙ্গিবাদই তাদের ধর্ম।
শেখ হাসিনা বলেন, কিছু কিছু অপশক্তি প্রচার করে বেড়ায় যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই ইসলাম থাকবে না, বিশেষ করে পচাত্তরে আমার বাবা-মা-ভাই-বোনসহ ১৮জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করার পরও এমন প্রচারণা চালানো হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পচাত্তরের হত্যার পর ধর্ম নিয়ে ব্যবসা হয়েছে কিন্তু প্রকৃত ধর্মের প্রচার প্রসার হয়নি। বঙ্গবন্ধু দেশ থেকে মদ-জুয়া বন্ধ করেছিলেন। অপরদিকে, যারা পচাত্তরের পরে ক্ষমতায় এসেছিল তারা মদের লাইসেন্স দিয়েছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড গঠণ করেছিলেন, বিশ্ব এজতেমার জন্য জায়গা দিয়েছিলেন, দেশকে ওআইসিভুক্ত করেছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন। তিনি চান আল্লাহ যেন তাকে দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ দেন। বাংলাদেশের মানুষ যেন মাথা উচু করে চলতে পারেন। সেভাবেই তিনি বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চান।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। তারা অনেকেই জীবন দিয়েছেন। যারা জীবন দিয়েছেন তাদেরকে যেন আল্লাহ জান্নাতে স্থান দেন।
সবশেষ বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা ও ইসলাম ধর্মকে শান্তির ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিা করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
কেবি





