বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে অভিনব প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই গৃহবধূকে অন্ত:সত্বা হয়ে পড়লে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয়েছে।

পঞ্চগড় জেলা সদরের গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের কালিখাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় অভিযোগ ও স্থানীয় এলাবাসী সূত্রে জানা যায়, গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের কালিখাপাড়া গ্রামের ওই গৃহবধূর স্বামী গত দেড় বছর আগে মারা যায়। দুই সন্তানের ওই জননী কষ্ট করে সংসার পরিচালনা করছিলেন।

এই সুযোগে প্রতিবেশী মো. পরমথ আলীর ছেলে মো. আজিমুল ইসলাম (৩০) ঘন ঘন তার বাড়িতে আসা যাওয়া শুরু করেন। বার বার প্রেমের প্রস্তাব দিতে থাকেন। কিন্তু সাড়া না পেয়ে তাকে বিয়ে করে পূর্বের সন্তানদের ভরন পোষণের দায়িত্ব নিবে বলে প্রলোভন দেখায়।

এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দিন যতই যেতে থাকে উভয়ের মাধ্যে সম্পর্কের গভীরতা ততই বাড়তে থাকে। পরিশেষে প্রেমের সম্পর্ক পরিণত হয় দৈহিক সম্পর্কে। এভাবেই এক সময় ৫ মাসের অন্ত:সন্তা হয়ে যান ওই গৃহবধূ।

অন্ত:সন্তার খবর জানিয়ে আজিমুলকে ওই গৃহবধূ বিয়ের চাপ দিতে থাকে। এর মধ্যেই কৌশল পাল্টিয়ে ফেলে আজিমুল। সে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জানায়, তার আগে তাকে গর্ভপাত করতে হবে।

প্রেমের গভীর মোহে আজিমুলের সব কথায় রাজি হয়ে যান ওই গৃহবধূ। তার কথা অনুযায়ী দুজনে চলে যান বজরাপাড়া নতুনহাটের শ্রী সীরেন্দ্রনাথ নামে এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে। ওই চিকিৎসক তাকে গর্ভপাতের ইনজেকশন দেন। তার দুদিনের মধ্যেই তার গর্ভপাত হয়।

এসময় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আজিমুল তাকে ভ্যানযোগে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এক সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে ওই গৃহবধূ।

বাড়িতে ফিরেই সে শুনতে পায় আজিমুল তার হাসপাতালে অবস্থানকালিন সময়ে আটোয়ারী উপজেলার তড়েয়া এলাকায় বিয়ে করে বৌ ঘরে এনেছে। এ সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ওই গৃহবধূ। পরে সে বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে জানিয়ে বিচার দাবি করে।

বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পর্যন্ত গড়ালে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতামাস হুসাইন লেলিন উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশ ডাকেন। সালিশে সকলের সামনে আজিমুল সকল কথা স্বীকার করে। কিন্তু সালিশে গোলযোগ দেখা দিলে বিষয়টি অমিমাংসিতই থেকে যায়।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ওই গৃহবধূ নিরুপায় হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গ, বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে বিবাহ ব্যতীত অবৈধ সম্পর্ক করা এবং নারীর সম্মতি ব্যতিত গর্ভপাত করে শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার বাধা প্রদান করার অপরাধে আজিমুল সহ ২ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে।

(ধারা ৩০৭, ৩৭৯ ও ৩২৬...) মামলা দায়ের করার পর থেকেই আজিমুল ও তার সহযোগীরা তাকে নানারকম হুমকি প্রদান করছে বলেও অভিযোগ করে ওই গৃহবধূ। বর্তমানে ওই গৃহবধূ নিরাপত্তার আশঙ্কায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে আজিমুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বড় ভাই হাসিবুর ইসলাম (৪৫) ঘটনার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার ভাইকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।

গড়িনাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতামাস হুসাইন লেলিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা বিষয়টি মিমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশে বসলে বিবাদি আজিমুল তার দায় স্বীকার করে। কিন্তু সালিশে গোলযোগ দেখা দিলে বিষয়টি অমিমাংসিত থেকে যায়। পরবর্তীতে বাদি পঞ্চগড় সদর থানার আশ্রয় নেন।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই গৃহবধূর মামলাটি রজু করা হয়েছে। আমরা আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আইনি প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এআর