যশোরের মণিরামপুর বাজারে সন্ত্রাসীরা বোমা ফাটিয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রতন পালের ব্যাগভর্তি টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় লুটেরাদের ধারালো অস্ত্রের কোপে ব্যবসায়ী রতন পালের ছোট ভাই পরিমল পাল (৪৫) আহত হন। পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত পরিমল মণিরামপুর বাজারের দোলখোলা মোড় এলাকার মহাদেব চন্দ্র পালের ছেলে।

শনিবার রাত ১১টার দিকে শহরের দোলখোলা মোড়ে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে এঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল দুটি সিসি ক্যামেরার আওতায় হওয়ায় পুলিশ রাতেই ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

ঘটনার পর পরই মণিরামপুর থানার ওসি ও ব্যবসায়ী নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ব্যাগে ঠিক কত টাকা ছিল তার সঠিক কোন তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ। তবে নির্ভরশীল  একটি সূত্র বলছে ওই ব্যাগে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা ছিল।

বাজারের নৈশপ্রহরী আবুল হোসেনসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ১১টার দিকে মণিরামপুর বাজারের কুলটিয়া মোড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নিজেদের মাইক্রোবাসে চড়ে ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে বাসায় ফেরেন মেসার্স পাল ব্রাদাসের স্বত্বাধিকারী তিন ভাই রতন পাল, কার্তিক পাল ও পরিমল পাল। মাইক্রোবাসটি দোলখোলা মোড়ে নিজেদের বাসার সামনে পৌঁছলে গাড়ি থেকে নামেন তিন ভাই। এসময় বিপরীত দিক থেকে দুই যুবক দৌড়ে এসে পরিমলের হাতে থাকা টাকার ব্যাগটি নিয়ে টানাটানি শুরু করে। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে সেখানে দায়িত্বরত নৈশপ্রহরী আবুল হোসেন দৌড়ে গিয়ে পরিমলকে ছাড়িয়ে নিতে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। এ সময় লুটেরাদের একজন ধারালো অস্ত্র দিকে তাকে কোপ মারে। নৈশ প্রহরী আবুল হোসেন নিজেকে বাঁচাতে সরে পড়লে কোপটি লাগে পরিমলের বুকে। দুর্বৃত্তরা এর পর পরিমলের পিঠে আরেক কোপ বসিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বোমার শব্দ ও ধোঁয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে সঙ্গে থাকা দুই ভাই আহত পরিমলকে উদ্ধার করে মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ডাক্তাররা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে মারা যান পরিমল পাল। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন পরিমলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য দিন ব্যবসার টাকাসহ তাদের তিন ভাইকে বাড়ি পৌঁছে দেন দোকানের কর্মচারীরা। কিন্তু শনিবার নিজেদের মাইক্রোবাসে চেপে খুলনায় ডাক্তার দেখাতে যান রতন পাল। রাতে তিনি দোকানে ফিরে দুই ভাইকে গাড়িতে তুলে বাসায় ফিরছিলেন। তাদের ধারণা, ছিনতাইকারীরা বাড়িটির পাশে ওঁত পেতে ছিল।

এদিকে, ঘটনা শুনে মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন ও ব্যবসায়ী নেতারা রাতেই ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ সেখান থেকে কয়েকটি জালের কাঠি উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল দুটি সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকায় দ্রুতই ছিনতাইকারীদের আটক করা সম্ভব হবে বলে উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করেন ওসি মোকাররম। এদিকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রতন পালের ওপর হামলা ও তার ভাইকে হত্যার প্রতিবাদে আজ রোববার সকালে মণিরামপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা বিক্ষোভ মিছিল করে খুনিদের আটক ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এমই