গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক কীটনাশক খাওয়ায়ে হত্যার পর লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন। আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

জানা গেছে, উপজেলার শাখাহার ইউপির দেওলালা (দেল্লা) গ্রামের অফিজউদ্দিনের কন্যা রুপালী বেগম (১৮) কে এক বছর পূর্বে বিয়ে দেয় একই ইউপির দশলাল গ্রামের জসিম মন্ডলের পুত্র সাফিরুল ইসলামের সাথে।বিয়ের পর থেকে রুপালীরকে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন যৌতুকে টাকার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে রুপালী কাটাবাড়ী ইউপির মানসা পুকুর পাড়ে তার মা আবেজা বেগমের বাড়ী আসে।

গত ৯ জানুয়ারী বাবা অফিজউদ্দিন কন্যা রুপালী বেগমকে ডেকে তার বাড়ীতে নিয়ে যায় যৌতুকের টাকা দিবে বলে। সেখানে রবিবার গৃহবধু কীটনাশক পান করে মারা যায় ।

গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দিলে এসআই আব্দুল গফুর ঘটনাস্থল পরির্দশন করে উপস্থিত এলাকাবাসি ওপরিবারের লোকজনের স্বাক্ষর নিয়ে লাশ দাফনের কাথা বলে আসায় লাশ দাফন করে।

মেয়ের মৃত্যু কথা শুনে তার মা আবেজা বেগম মেয়ের মৃত্যু লাশটিও তাকে দেখতে দেওয়া হয়নি বলে আবেজার অভিযোগ।

নিহত গৃহবধু রুপালীর মা আবেজা বেগম ভরাকান্না নিয়ে অভিযোগ করেন, তার কন্যা রুপালী বেগমকে বিয়ের সময় যৌতুক দেওয়ার কথা ছিল। অতিকষ্টে মেয়ের কিছু টাকা তার বাবার কাছে রয়েছে ।

কিন্তু তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় আবেজা কাটাবাড়ীর মানসার পুকুর পাড়ে বসবাস করার সুযোগে ঐ দিন যৌতুকের কথা বলে রুপালীকে ডেকে নিয়ে যায় । এবং যৌতুক না দিয়ে স্বামী ,সতীন ও সতীনের মেয়ে জোর করে কীটনাশক খাওয়ায়ে হত্যা করেছে ।

এব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত এ একটি হত্যা মামলা দায়ের সহ লাশ উত্তোলন পূর্বক ময়না তদন্তের জন্য আবেদন করেছেন বলে তার মা আবেজা বেগম জানিয়েছেন।

এব্যাপারে ওসি মোজাম্মেল হক ও এস আই আব্দুল গফুর জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারের দাবী রুপালী নিজেই বিষ পানে আত্মহত্যা করে মর্মে উপস্থিত লোকজনসহ পিতা-মাতা লাশের ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুরোধে তাদের স্বাক্ষর নিয়েছেন।

এআই