প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর রাজধানীর কারওয়ান বাজারের হাসিনা মার্কেটের আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রনে এসেছে বলে জানা গেছে। রাত সোয়া ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। এরই মধ্যে আগুনে শতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

তবে, কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যায়নি। অবশ্য ভেতরে কেউ কেউ আটকা ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তাদের পরিণতি কী হয়েছে তা হয়তো পরে জানা যাবে।

এর আগে আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে অনেক দূর পর্যন্ত। পাশের অনেকগুলো টিনের ঘরও পুড়ে ছাই হয়ে যায়। 

রাত সাড়ে ১০টা ৪৫ মিনিটে এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে আসে। এসময় হাসিনা মার্কেট ও এর আশপাশে দেখা যায় শুধু ধ্বংসস্তুপ। 

এর আগে, প্রচন্ড দমকা হাওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রনে হিমশিম খাচ্ছিল ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা। আগুনের লেলিহান শিখা বার বার উপরের দিকে উঠছিল এবং ছড়িয়ে পড়ছিল আশপাশে।

এদিকে, এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আনিসুল হক ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করার পর ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। তবে, যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করার সাধ্য সরকারের নেই বলেও জানান মন্ত্রী। তথাপি যতটা সম্ভব ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

এর আগে, আগ্নিকাণ্ড চলাকালে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে কারওয়ান বাজার এলাকায় যেসব বিদ্যুতের ট্রান্সফার্মার রয়েছে সেগুলো বিস্ফোরিত হওয়ায় ওই শব্দ হয়েছে।

অপরদিকে, পানির সংকট দেখা দেওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রনের কাজ ব্যহত হয়েছিল বার বার। আগুনের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় এলাকায় বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।

তবে, আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় নি। অপরদিকে, ছুটির দিন হওয়ায় মার্কেটে লোকজন কিছুটা কম থাকায় ভয়াবহতা কম হয়েছে।

অপরদিকে, আগুন লাগার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হলেও প্রায় ১ ঘণ্টা পর উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস আসে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রন শুরু হলে ক্ষতির পরিমান কম হতো বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কোন গাফলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান সংস্থাটির উদ্ধার টিমের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা।

কেবি