অবশেষে উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরাম রাজ্যে চালু হলো তুইরিয়াল পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প । ১৯৯৪ সালে প্রকল্প অনুমোদিত হলেও বহু টালবাহানার পর ৬০ মেগাওয়াটের এই পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ২৯ আগস্ট। অক্টোবর-নভেম্বরে বাকি ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনও শুরু হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিজেদের চাহিদাকে ছাড়িয়ে গিয়ে মিজোরাম এখন প্রতিবেশী বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বহু আন্দোলন-পাল্টা আন্দোলনের শেষে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা নর্থ ইস্ট ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশনের (নিপকো) রুইরিয়াল প্রকল্প পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলো। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা ও সিকিমের পরই বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রাজ্য হিসেবে উঠে এল মিজোরাম। নিপকোর জেনারেল ম্যানেজার পি কে বরা সাংবাদিকদের জানান, অক্টোবরের শেষে অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই পুরোদমে কাজ করবে ৬০ মেগাওয়াটের এই প্রকল্পটি।
ছোট্ট রাজ্য মিজোরাম। জনসংখ্যা মাত্র ১১ লাখ। বিদ্যুতের চাহিদা ব্যস্ততার সময়েই মাত্র ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। রাজ্যের ছোট ছোট মিনি পাওয়ার প্ল্যান্টের পাশাপাশি অন্যান্য প্রকল্প থেকে পাওয়া বিদ্যুতেই তাদের দিব্যি চলে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিজোরামের এক বিদ্যুৎ আধিকারিকের কথায়, ‘তুইরাইল প্রকল্প পুরো মাত্রায় চালু হলে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত হবে। তখন ইচ্ছা করলে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি নিয়ে ত্রিপুরার মতো আমরাও বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারব।’
তবে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের বিদ্যুৎ বাংলাদেশে বিক্রির বিষয়টি তাঁর এখতিয়ারবহির্ভূত বলে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তুইরাইল নদীতে ৭৪ মিটার উচ্চতার ৭০০ মিটার লম্বা বাঁধ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অববাহিকা অঞ্চল ১৮৬০ কিলোমিটার। কোলাশিবের তুইরাইল বাঁধ পেরিয়ে আসামে প্রবেশ করে নদীটি মিশে যাবে বরাক নদীতে। মিজোরামের ৩১৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কংগ্রেস শাসিত মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহাওলা। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি নিয়ে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি বলে জানা গেছে। কারণ বৈদেশিক বিষয়টি রাজ্যের আওতাধীন নয়। তবে বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে খবর, তারা প্রকাশ্যে মুখে কিছু না বললেও কেন্দ্রীয় সরকার মারফত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানিতে আগ্রহী।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও উল্লেখ করেন, রাজ্যে আরও বেশ কয়েকটি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করবে নিপকো। উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে রাজ্য সরকারের মুনাফা অর্জনে আগ্রহের কথাও শোনান তিনি। কিন্তু কূটনৈতিক শিষ্টাচারের কারণে এখনই বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ বিক্রির কথা তাঁরা বলছেন না বলে মিজোরাম সরকারের এক উচ্চপদস্থ আমলা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।
এমএ





