ছোটবেলায় জিসান (ছদ্দনাম) ধনাগোদা নদীর খেয়া পারাপারের নৌকা দিয়ে নদী পার হওয়ার সময় তাকে তাঁর বাবা বলেছিল- দেখে নিও,একদিন এই নদীর উপর ব্রীজ হবে। সময় বয়ে চলে,কেটে যায় বছরের পর বছর।
জিসানের বাবা মৃত্যু হয়,কিন্তুধনাগোদা নদীর উপর ব্রীজ হয় না। তাহলে কি বাবা মিথ্যা আশার বাণী শুনিয়েছিল ছোট বেলায়। ‘না’ বাবা মিথ্যা কথা বলেনি, ব্রীজ হবে। এই রমক বহু জিসানের বাবার স্বপ্ন আজ বাস্তব রুপে হাজির হয়েছে।
আজ সেই দিন মতলববাসীর ৪৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটবে। সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর হবে সকলের চাওয়া এই ধনাগোদা নদীর উপর 'মতলব সেতু'র।
আজ সকাল ১০টায় মতলব সেতু নির্মাণ কাজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া) বীর বিক্রম ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলা মেঘনা নদীর একটি শাখা ধনাগোদা নদীর জন্য বিচ্ছিন্ন। মতলব শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহমান এ নদী ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উত্তর মতলব উপজেলার মানুষ জেলা সদরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন।
অনুন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে এ উপজেলার খাদ্যশস্য এবং শিল্পজাত পণ্য স্বল্পসময়ে দেশের অন্যত্র পৌঁছানো সম্ভব হয় না। যদিও বর্তমানে উক্ত স্থানে একটি ফেরি চালু রয়েছে কিন্তু যাত্রী সাধারণ ও মালামাল পরিবহনের জন্য তা খুবই অপ্রতুল এবং অধিক সময় ব্যয় হয়।
এই সেতুটি নির্মান হলে শুধু মতলব বাসী-ই নয় চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ, হাজিগঞ্জ, রামগঞ্জ, নোয়াখালী, হাইমচর, লক্ষীপুর ও পাশ্ববর্তী এলাকার প্রায় ৩০ (ত্রিশ লক্ষ) জনগণ ২ ঘন্টা কম সময়ে ও ৪০ কিলোমিটার কম পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌছুঁতে পারবে। এ প্রেক্ষাপটে সড়ক বিভাগ বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়কে ধনাগোদা নদীর উপর ৩০৪ দশমিক ৫১ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করে।
সেতুর নির্মাণের প্রস্তাব পাওয়ার পর বর্তমান ফেরিঘাট হতে ৭৭৯.০০ মিটার উজানে ৩০৪.৫১মিটার র্দীঘ মতলব সেতু নির্মাণের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ২০১২ সালে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়।
সে সময় সওজ ২০০৮ সালের রেইট অনুযায়ী ৪৯.৬১০ কোটি টাকা প্রক্কলিত ব্যয় ধরা হয়। পরবর্তীতে ৮৩.৯৪৮৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে পুর্নগঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হলে এর উপর গত ৯ জুন ২য় পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পিইসি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক মতলব সেতু নির্মাণের পুর্নগঠিত ডিপিপি একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন থাকে।
গত ১৪ ই অক্টোবর ২০১৪ সালে ইকোনমিক কাউন্সিল অব ন্যাশনাল এ্যাক্সিকিউটিভ কমিটি (একনেক)-এর সভায় এই সেতু নির্মানে প্রয়োজনীয় ৮৪ কোটি ৬০ লক্ষ ৬৭হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। সড়ক যোগাযোগ সহজ ও স্বল্প ব্যায়ে করার লক্ষ্যে বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়কে বিবেচ্য প্রকল্পের আওতায় ৩০৪.৫১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.২৫ মিটার প্রস্থের এ আরসিসি সেতুটি আগামী ৩০ শে জুন ২০১৭ ইং তারিখের মধ্যে নির্মান কাজ শেষ হবে।
চাঁদপুর সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, ৮৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং সোয়া ১০ মিটার প্রস্থের ধনাগোদা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ হবে।
চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, চাঁদপুর-বাবুরহাট-পেন্নাই আঞ্চলিক মহাসড়কের মতলব দক্ষিণের ভাঙারপাড় এবং উত্তরের বাইশপুর এলাকায় এই সেতু নির্মাণের করা হবে। বর্তমান ফেরিঘাট থেকে ৭৭৯ মিটার পূর্বদিকে সেতু নির্মিত হবে বলে জানান তিনি। সেতুর উত্তর প্রান্ত বাইশপুরে এবং দক্ষিণ প্রান্ত বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়কের ভাঙ্গারপাড় অংশে মিলবে।
প্রকল্পের আওতায় যে সকল কার্যক্রমগুলো করা হবে তা হল, ৩০৪ দশমিক ৫১ মিটার আরসিসি সেতু নির্মান, অ্যাপ্রোচ সড়কের উপর ৩০ দশমিক ৫০ মিটার একটি সেতু নির্মুান, ১২ মিটার দুটি আরসিসি কালর্ভাট নির্মাণ, ১০ মিটার দুটি আরসিসি আন্ডার পাম নির্মান, ১ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার সাফেসিং এবং নতুন পেভমেন্ট তৈরী, ৯ দশমিক ৩৪ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহন, ৩ দশমিক ২৩ লক্ষ ঘনমিটার সড়ক বাঁধ নির্মাণ, জিও টেক্টাইল, টো-ওয়াল, সার্ফেস ড্রেন, দুটি ইন্টারসেকশন আইল্যানড এবং সাইন, সিগন্যাল, ইউটিলিটি সিফটিংসহ আনুসাঙ্গিক কাজ করা হবে।
ইআর





