নড়াইলে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন করতে অতিরক্ত টাকা গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভুক্তভোগি অভিযোগ করে জানান, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন করতে হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের লাইসেন্স নবায়ন’র দ্বায়িত্বে থাকা অফিস সহকারি মোশারেফ হোসেন কে ঘুষ দিতে হচ্ছে।
তিনি লাইসেন্স নবায়নের জন্য যাওয়া মাত্রই বলছেন জেলা প্রশাসকের এলআর ফান্ডে ঘুষ দেয়া বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। এতে করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে লাইসেন্স ধারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকার কর্তৃক এবার বন্দুক/শর্টগান/টুটুবর রাইফেল অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন ফিস্ এক হাজার টাকার স্থলে পাঁচ হাজার টাকা এবং ভ্যাট বাবদ সাতশত পঞ্চাশ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী ৩১জানুয়ারী পর্যন্ত চলবে নবায়ন কার্যক্রম। একদিকে সরকার কর্তৃক অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন ফি’র টাকা প্রায় পাঁচগুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপরদিকে জেলা প্রশাসকের এলআর ফান্ডের নামে সুকৌশলে এক হাজার টাকা উৎকোচ নেয়া হচ্ছে। আবার সুযোগ বুঝে কারো কারো নিকট হতে আরোও বেশি টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। নবায়নের জন্য গেলে লাইসেন্স সেকশনের দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারি মোশারেফ হোসেন নবায়ন বাবদ এক হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করছেন।
লাইসেন্স নবায়নকারীরা অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন নগদ এক হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যথায় জেলা প্রশাসকের এলআর ফান্ডের পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, নড়াইল শাখার ৪৪৩৯৭ নম্বর সঞ্চয়ী হিসাবে এক হাজার টাকা জমা দিয়ে আসবেন। তারপর নবায়ন হবে। অনেক লাইসেন্সধারী ঝামেলা এড়াতে দাবিকৃত এক হাজার টাকা নগদ দিয়ে অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন করে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার নড়াইল জেলা প্রতিনিধি মোঃ শাহীদুল ইসলাম শাহীর আগ্নেয়াস্ত্র (শর্টগান) যা নড়্ইাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ক্রমিক নং-৬৩/কালিয়া/১৬ নবায়নের কাগজপত্র জমা দিলে অফিস সহকারি মোশারেফ হোসেন এক হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে অফিস সহকারি মোশারেফ জানান, ডিসি স্যারের এলআর ফান্ডের হিসাব নম্বরে ব্যাংকে টাকা জমা না দিলে অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না।
অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে ডিসি’র এলআর ফান্ডে টাকা জমা দেয়ার সাথে সম্পর্ক কি জানতে চাইলে মোশারেফ কোন সদুত্তর দিতে না পেরে জানান, ডিসি স্যারের অনুমতি নিয়েই এলআর ফান্ডের টাকা গ্রহণ করা হচ্ছে। অস্ত্রের লাইসেন্সধারী সাংবাদিক শাহী উপায়ন্তর না পেয়ে মোশারেফকে এক হাজার টাকার ব্যাংক জমা রশিদ লিখে দিতে অনুরোধ করলে অনিচ্ছা সত্বেও তিনি (মোশারেফ) স্বহস্তে ব্যাংক রশিদ লিখে দেন।
কিন্তু পরবর্তীতে তার লেখা ব্যাংক রশিদটি সাংবাদিকের হেফাজতে রেখে মোশারেফকে নগদ এক হাজার টাকা উৎকোচ দিলে তখন তিনি অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেন। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন, ‘এলআর ফান্ডের কথা বলে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নিবেন।
রিন্টু/নাজিব





