গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বুধবার দুপুরে ব্রহ্মপুত্রের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ডেভিট কোম্পানি পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
এদিকে বুধবার সকালে জেলায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবর রহমান।
তিনি জানান, জেলা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত এসব নদ-নদীর পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটাসহ চারটি উপজেলায় এ পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী জানান, বন্যার কারণে তারা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
একই গ্রামের জয়নাল আবেদিন জানান, বন্যার পানিতে এলাকার নলকূপগুলো তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তারা অস্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
তিনি বন্যাদুর্গত এলাকায় অস্থায়ী মেডিকেল টিম স্থাপনের দাবি জানান।
ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর গ্রামের বাসিন্দা আয়নাল হক বলেন, মঙ্গলবার থেকে এ উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। এরপর প্রায় ১৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও আমাদের পাশে কেউ আসেনি।
আয়নাল হক জানান, তার ৬ সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন রিকশাভ্যান চালিয়ে। কিন্তু বন্যায় সব রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় রোজগারের পথ একেবারে বন্ধ। এখন পর্যন্ত তার ভাগ্যে সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে জোটেনি কোনো ত্রাণ। পরিবার-পরিজন নিয়ে তার দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে।
ফুলছড়ির এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান জানান, কয়েকদিনের ভাঙনে এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের জিগাবাড়ি, পশ্চিম জিগাবাড়ি, হরিচন্ডি, পাগলারচর এলাকায় নদী ভাঙনের কারণে ১৫০টি পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে জিগাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিগাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ ও জিগাবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক।
তিনি বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এখনও সরকারি কোনো ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয় নাই।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, ফুলছড়ি উপজেলায় ৫৯টি, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ১৫টি, সাঘাটা উপজেলায় ৩০টি ও সদর উপজেলায় ১৯টিসহ মোট ১২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় পাঠদান বন্ধ হয়ে পড়েছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল জানান, চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার মানুষ এখনও আশ্রয় কেন্দ্রে আসার মতো পরিস্থিতিতে পড়েননি। তবে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের হাতে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী রয়েছে।
তিনি বলেন, ফুলছড়ি ও সাঘাটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছাকাছি পানি চলে আসায় সেই এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরিভাবে ১২৫ মে.টন চাল ও ১০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এমই





