স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন তাসনুবা রেজা (২০) নামের তরুণী। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতলের ৪নং কেবিনে চিকিৎসাধীন। নির্যাতিতার শরীরের অধিকাংশ জুড়ে কালোশিরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

আবাসিক চিকিৎসক তাপস কুমার সরকার জানান, লাঠির আঘাত ও সুচাঁলো কোন কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। আশঙ্কাজনক না হলেও সুস্থ হতে সময় লাগবে। তাসনুবা কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়া’র ব্যবসায়ী সোহেল রেজার মেয়ে।

গত ২৩ অক্টোবর নওগাঁ শহরের দয়ালের মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় হাত-পা বেঁধে লাহরী খান তাসনুবাকে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনে তাসনুবার বাম পা থেকে কোমর পর্যন্ত কালো চওড়া দাগ পড়ে গেছে। বাম হাত থেকে পিঠ পর্যন্ত  রক্তজমাট বেঁধে কলো হয়ে গেছে।

নির্যাতিতা তাসনুবা বলেন,‘বাড়ি করার জমি কেনার টাকা দাবি করে তাকে গত ২৩ অক্টোবর নওগাঁয় ভাড়া বাসার কক্ষে আটকে রাখা হয়। এরপর লোহার পাইপ, মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত লম্বা লগ তালা ও টেস্টার দিয়ে অত্যাচার করে তার স্বামী।’  

তাসনুবার স্বামী লাহরী খান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি নওগাঁ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।

তাসনুবার পিতা সোহেল রেজা জানান, দেড়বছর আগে দুই পরিবারের সিদ্ধান্তেই লাহরি খানের সাথে মেয়ের বিয়ে দেন। বিয়ের সময় লাহরীকে ৫ লাখ টাকাও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নওগাঁয় ৩ কাঠা জমি কিনবে বলে নতুন করে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে লাহরী। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মেয়েকে প্রায়ই মারধর করা হত।

তাসনুবার মা লুৎফন্নাহার বলেন, ‘২৩ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে জামাইয়ের মোবাইলে কল করি। ওই সময় জামাই মেয়েকে নিয়ে যেতে বলে। সংবাদ পেয়ে রাতেই স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে নওগাঁয় যাই। গিয়ে দেখি থানায় আমার মেয়ে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছে। পুলিশ সাদা কাগজ ও তালাক নামায় স্বাক্ষর নিয়ে আমাদের থানা থেকে বের করে দেয়। হাসপাতালে নিতে চাইলে স্থানীয় যুবকরা আমাদের বাঁধা দেয়। পরে একটি মাইক্রোভাড়া করে ভোর রাতে কুষ্টিয়া এসে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। আমার মেয়ের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তার সঠিক বিচার চাই।’

তবে তাসনুবার স্বামী লাহরী বলেন, ‘পরকীয়ার কারণেই তাকে মারধর করা হয়েছে।’

এমএ