কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় সাপ্লাইয়ের পানি পান করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক গৃহিনীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত গৃহিনীর নাম রোওশনারা বেগম (৪০)বলে জানা যায়।

এছাড়া আরো শতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। আর প্রতিদিনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বেড়েই চলছে।

চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে নিউটাউন এলাকার রোওশনারা বেগম শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তিকৃত শহরের সতাল এলাকা থেকে আসা ভুক্তভোগী রোগী রেনুফা জানান, গত নয়দিন ধরে পৌর এলাকার নিউটাউন, সতাল ও বোয়ালা বাসিন্দারা সাপ্লাইয়ের ময়লাযুক্ত ও দূষিত পানি পান করছেন। ফলে প্রতিদিন ১২-১৩ জন মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

রেনুফা আরো জানান, ভালো চিকিৎসার জন্য সরকারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু অভিজ্ঞ ডাক্তার না এসে নার্স ও ইর্ন্টানি ডাক্তার দিয়ে কতৃপক্ষ দিনে একবার রোগীদের সঙ্গে দেখা করে যান।

আর ওর্য়াডের কক্ষগুলি পরিষ্কার না থাকায় মারাত্মক দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আক্রান্ত রোগীরা দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে ও প্রয়োজনীয় সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে অনেকেই প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হচ্ছেন।

হাসপাতালের ডায়রিয়া বিভাগের ইনচার্জ শাহনাজ পারভিন জানান, প্রতিদিনই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা ১৪/১৫ জন করে বাড়ছে। এপর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দেড়-শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে সিটও সীমিত, আর আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ইনজেকশন সিপটিয়াজম ১,২ গ্রাম ও ৫০০ মিলি গ্রাম ট্রাকসন ১,২ গ্রাম ও ৫০০ মিলিগ্রাম সিপ্লিও এবং স্যালাইনের সংকট রয়েছে। তাই সব সামলে নিতে সমস্যা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতাল সিভিল সার্জন ডাক্তার মৃণাল কান্তি পন্ডিত জানান, হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের ঔষধের সংকট তেমন নেই। যে  রোগীটি মারা গেছে, তার ডায়রিয়ার সঙ্গে অন্য সমস্যাও ছিল বলে জানান তিনি।

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ