স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, কল্যাণপুরে জাহাজ বিল্ডিং নামে একটি ভবনে পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গিরা একটা বড় ধরনের নাশকতা চালানোর জন্যই এখানে তৈরি হচ্ছিল। আমাদের ধারণা, হয়তো দু’একদিনের মধ্যে নাশকতার পরিকল্পনা তারা নিচ্ছিল।
তিনি বলেন, জঙ্গিদের শরীরে ড্রাগের উপস্থিতি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভিসেরা টেস্ট করে আমরা কনফার্ম (নিশ্চিত) হতে পারব। আমরা ভিসেরা টেস্টের ব্যবস্থা নিয়েছি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়ে বলেন, এ অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী এরা জেএমবির সদস্য। আমাদের ধারণা, তারা অভিযান শেষ করেই আইএস নামে আত্মপ্রকাশ করত। সেখানে আরও দু’একজন ছিল কি না এটা আমরা দেখছি। আরও ডিটেইলড জানার পর বলতে পারব।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, সারা ঢাকা শহরে আমরা রুটিন চেক করছিলাম, আমরা ব্লক রেইড দিচ্ছিলাম। ইনফরমেশনের ভিত্তিতে হঠাৎ করেই কোনো জায়গায় ব্লক রেইড দেয়া হতো। সেই তৎপরতার ধারাবাহিকতায় সোমবার আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কল্যাণপুরে পুলিশ যখন ব্লক রেইড দিচ্ছিল, একটি বাড়ি থেকে বোমা ও গুলি ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে। ঘিরে ফেলার পর সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়া অবস্থায় একজনকে ধরে ফেলে পুলিশ। ধরে ফেলার পরও পুলিশের ওপর উপর্যপুরি বোমা ও গুলি চলছিল। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। বাড়িটার অবস্থান বুঝে বিশেষ টিম সোয়াটকে আহ্বান করে পুলিশ। সোয়াট টিম এসে অভিযান শুরু করে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৫ টা ৫১ মিনিটে অপারেশন ‘স্টর্ম টুয়েন্টি সিক্স’ শুরু হয়। পাঁচতলা ওই ভবনে এক ঘণ্টাব্যাপী অপারেশন চলে। বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে জঙ্গিরা অবস্থান করত। বাড়ির অন্য বাসিন্দাদের নিরাপদ রেখে এ অপারেশন করে পুলিশ। সন্ত্রাসী ছাড়া অপারেশনে আর কেউ নিহত হননি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিতভাবে পুলিশ যে অপারেশন করেছে এটা অত্যন্ত সাকসেসফুল অপারেশন হয়েছে। আমি মনে করি, অভিযানটি অত্যন্ত সফল ও পুলিশ বাহিনী দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। পাঁচ তলা বাড়িটার আর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পুলিশ বাহিনীর কয়েক জন আহত হয়েছেন। পুলিশ বাহিনী যে দক্ষতা অর্জন করেছে এ অভিযানের মধ্য দিয়ে সেটা প্রমাণও করেছে। এ ব্যাপারে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ যাতে এ ধরনের জঙ্গিদের ভাড়া না দেন। এ ধরনের জঙ্গিদের অবস্থান যখনই টের পান তখনই আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে খবর দেন। জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যেখানে যেটা পাচ্ছি আমরা তার ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে আমাদের ব্লক রেইড এ সমস্ত কিছু চলবে।
কল্যাণপুরের জঙ্গিদের সঙ্গে গুলশান ও শোলাকিয়ার জঙ্গিদের যোগশাজস ছিল কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, তাদের অবস্থান, ব্যবহার্য জিনিসপত্র, তাদের যে গোলাবারুদ আমরা পেয়েছি তাতে অনুমান করছি তাদের (গুলশান-শোলাকিয়ার সন্ত্রাসী) সঙ্গে লিঙ্ক থাকতে পারে। গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানের পর বিস্তারিত বলতে পারব।
গুলশানের ঘটনার সঙ্গে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের সম্পৃক্তর বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না, আমরা কাউকে সন্দেহের বাইরে রাখছি না। এটাও সঙ্গে সঙ্গে বলছি কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করব না। তাকে (হাসনাত) এখনো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কনফার্ম না হয়ে আমরা তাকে নির্দোষ কিংবা দোষী এগুলো বলছি না।
এমআইএস





