ভোলার অন্যতম ঐতিয্যবাহী খাবার মহিষের টকদই। সম্পুর্ণ ফর্মালিন মুক্ত এ সু-স্বাধু খাবারটি ভোলার প্রতিটি পরিবারে অতি প্রিয় ও সুস্বাধু খাবার ।

বিয়ে বাড়িসহ যে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্পায়নে এ টকদয়ের প্ররিবেশন না হলে খাবারের যেন একটু অপূর্ণতা হয় না ।

কোন প্রকার ভেজাল ছাড়াই মহিশের কাঁচা দুধ থেকে এ টকদই উৎপন্ন হয় । এটি সুধু খেতেই সু-স্বাধুই নয় ।

কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এটি মানুষের শরিরের ভেক্টেরিয়া জনিত বহু ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভোলার এ টক দইয়ের চাহিদা শুধু ভোলাতেই । এখন দেশের বিভিন্ন স্থানেও এ দইয়ের বেশ চাহিদাও রয়েছে।

ধান সুপারি আর ইলিশের এই দ্বীপ জেলা ভোলার শত শত বছরের ঐতিয্যবাহী সু-স্বাধু খাবার মহিশের এ টকদই।

এটি মহিশের উৎপাদিত একমাত্র কাচা দুধ থেকে তৈরি হয়। জেলার বিভিন্ন চর অঞ্চলের লোনা পানি এলাকায় রাখালরা মহিষ লালন পালন করে। সেখান থেকে গোয়ালরা উৎপাদিত মহিশের দুধ সংগ্রহ করে পৌছে দেয় শহরের বিভিন্ন বাজারেসহ দই ব্যবসায়ীদের কাছে।

ভোলা গাজিপুর রোডের আর্দশ দই ভান্ডরের মালিক আবদুল হাই জানান, প্রতিদিন দুপুরে গোয়ালরা মহিষের দুধ দোকানে দিয়ে যায়। এ কাঁচা দুধ মাটির টালি ও পাতিলে ঢেলে হালকা গরম জায়গায় রেখে দেয়।

একদিন পর সেই দুধ বসে পরিনত হয় সু-স্বাধু খাবার টকদইয়ে। এক কেজি ওজনের এক পাতিল দধি বিক্রি হয় ১৫০ থেতে ১৮০ টাকা এবং বড় আড়াই কেজি ওজনের দধি বিক্রি হয় আড়াইশ থেকে ৩ শত টাকা দরে। তবে হঠাৎ করে বেশী দধির প্রয়োজন হলে পাওয়া যায়না। আগে থেকে অর্ডার দিতে হয়। ভোলা ঘোষট্রি থেকে প্রতিদিন শত শত পিচ দধি বিক্রি হয়।

এ সু-স্বাধু খাবারটি এখানকার প্রতিটি মিষ্টি ভান্ডার ও দধি ভান্ডার গুলোতে সাজিয়ে রাখতে দেখা যায়। আর ক্রেতারা এসে এ সকল ভান্ডার থেকে দই ক্রয় করে ভোলার বিভিন্ন অঞ্চলসহ নিয়ে যায়।

ক্রেতা ফিরোজ,সিদ্দিক বলেন,আমাদের ভোলাতে যেট বড় যে কোন অনুষ্ঠানের খাবারের বিশেষ আর্কষন হচ্ছে মহিষের কাঁচা দই। এ জেলার প্রতিটি পরিবারে খাবারের সাথে মিশে আছে এ মহিশের টকদই।

বিয়ের অনুষ্ঠানসহ যে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্পায়নে খাবারের শেষে এ দই প্রবিবেশন করা হয়। চিনি বা গুড় দিয়ে দই খেতে খুব সুস্বাদু বলে এর বেশ চাহিদা এখানে।

ভোলার এ টক দইয়ে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্রিম এবং মাখম। এটি খাবারের অজম শক্তি বাড়ায়। শুধু তাই নয়।

এটি মানব দেহের মহোঔষধ। মানুষের শরিররে ভেক্টেরিয়া জনিত বহু রোগ নিরাময়ের একমাত্র কার্যকরি ভুমিকা রাখে বলেও ডাক্তাররা মন্তব্য করেন।

এসএইচ