সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানান, এই নির্বাচনে পেশিশক্তি, টাকা, ধর্ম ও পুরুষতান্তিকতার অপব্যবহার করতে দেখা গেছে। উভয় দল নির্বাচনি আচারণবিধি লঙ্ঘনের জন্য নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের সংসদে নারী প্রতিনিধি কম। ৮ টি দলের নারী প্রতিনিধি সংসদে নেই। ভোট সুষ্ঠু, অবাদ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। কোন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়নি। ভোট অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে একটি দল (আওয়ামী লীগ) বলেছে, নির্বাচন আমরা চাই না। এই নির্বাচন প্রতিহত করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি, ওই দলের নেতা-কর্মীরা ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার ভোট করেছে।

টিআইবি জানায়, নির্বাচনি সমঝোতা, জোট, কোন্দল ও রাজনৈতিক বিভাজন, প্রার্থীদের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বিচার না করে মনোনয়ন প্রদানের অভিযোগ, সক্রিয় ও দলের প্রতি অধিক অবদান রাখা প্রার্থীদের দলের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিতরা আন্দোলন, অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সহিংসতা- ক্ষমতার রাজনীতির দৃষ্টান্ত দেখা গেছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যা সহিংসতার তথ্য প্রচার, অস্থিতিশীলতা তৈরি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করা এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এআই ব্যবহার করে প্রস্তুতকৃত ফটোকার্ড ও ভিডিও দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার: নারীকে অবমাননা করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট এবং তা নিয়ে বিতর্ক; নারী প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা প্রদান, অশালীন, নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ও প্রচারণা লক্ষ করা গেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিপুল পরিমাণ অর্থসহ গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা, ভোটারদের প্রভাবিত করতে নগদ অর্থ বিতরণ ও বিতরণের সময় নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার হতে দেখা গেছে।

টিআইবি আরও জানায়, ক্ষেত্রবিশেষে, ভোটারদের হুমকি দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী-নেতা-কর্মীরা বক্তব্য প্রদান করেছেন; এছাড়া, অস্ত্রসহ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার, কিছু আসনে প্রতিপক্ষের নির্বাচনি অফিস এবং ভোটকেন্দ্রে হামলা, কেন্দ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ছিল। ১১ দলীয় জোটের ভোট গণনায় অনিয়মসহ ১০ শতাংশ পর্যন্ত কারচুপির অভিযোগ- কেন্দ্র দখল ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট গণনায় ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ, ৩০ আসনে ভোট পুনরায় ভোট গণনার দাবি উঠেছে।

টিআইবি আরও জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক নিবন্ধন স্থগিতসহ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইভাবে নির্বাচনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ অবৈধ ও প্রতিহত করার ঘোষণা ও তৎপরতা এবং নির্বাচন ও নির্বাচনি পরিবেশে আওয়ামী লীগের নেতিবাচক ভূমিকা দেখা গেছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন প্রতিহত করার অবস্থান স্বত্বেও মাঠপর্যায়ে তাদের কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনে ভোটার হিসেবে অংশ নিয়েছেন।

মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের ভোট টানার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের অনেকেই, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত জোট এবং জাতীয় পার্টিসহ দল ও প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও সাড়া দিয়েছেন এবং অনেকক্ষেত্রে নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী কোনো কোনো দলে যোগদান ও প্রচারণায় সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে আওয়ামী লীগ একদিকে দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতিবাচক এবং অন্যদিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে দলটির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ভোটসহ রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। উভয় ভূমিকার ক্ষেত্রে দলটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা বিদ্যমান ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ ও কমিনিউকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও পরিচালক (গবেষণা) মো. বদিউজ্জামান।

এমএম