নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ের নির্দেশনায় সাড়া দেয়নি রাজধানীবাসী। ফলে দুই সিটি করপোরেশনের তাবু টাঙ্গানো নির্ধারিত স্থানগুলোতে কোরবানির পশুর দেখা মেলেনি।

তার বদলে কোরবানি হচ্ছে, অলি-গলিতে, মহাসড়কে, বাড়ির গ্যারেজে, মার্কেটের সামনে ও বাড়ির সামনের ফুটপাতে।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে ঘুরে রাজধানীর গুলশান, বনানী, মহাখালী, উত্তরা, সেগুনবাগিচা, গুলিস্তান, নিউমার্কট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এ চিত্রই ফুটে উঠেছে।
পশু কোরবানির পর নগরবাসী অনেকেই রাস্তার ওপরই ফেলছেন গরু-ছাগলের গোবর, রক্ত ও উচ্ছিষ্ট। নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে, সে বিষয়ে তাদের কেউ কিছু বলেননি বলে দাবি করছেন।

সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের অভাবকেও দায়ী করছেন তারা।

উত্তর সিটির মেয়রের নিজ এলাকার পুরো বনানী আবাসিক এলাকা জুড়েই একই চিত্র। রাস্তায়, গ্যারেজে ও ফুটপাতে কোরবানি দিয়ে গোবর ও রক্ত ফেলা হচ্ছে বাড়ির সামনের ফুটপাত ও ড্রেনে।

গুলশান ২ নম্বর চত্ত্বরের সামনের অফিস ও মার্কেটের সামনে চলছে কোরবানি ও মাংস কাটার কাজ। কিন্তু গুলশানবাসীর জন্য নির্ধারিত গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের মাঠে কোনো পশু জবাই হয়নি। তবে মাঠের পাশের রাস্তায় তিনটি গরু ও একটি ছাগল জবাই হয়েছে।

ইয়ুথ ক্লাবের পাশের মাঠে কোরবানি না দিয়ে রাস্তায় কোরবানি দিচ্ছেন পাশের বাড়ির লোকজন। এখানকার অন্য সবাই বাড়ির গ্যারেজে পশু জবাই করলেও তারা কেন রাস্তায় কোরবানি দিচ্ছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো উত্তর দিতে চাননি তারা।

মহাখালীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশেই ফুটপাতে পশু জবাই হতে দেখা গেছে। আর পশুর বর্জ্য রাখা হচ্ছে রাস্তায়। এর কারণ হিসেবে সাইফুল আলম রাসেল বলেন, নির্দিষ্ট জায়গায় কোরবানি দিতে হবে এমন কথা আমাদের কেউ বলেননি। এটা জানলে তো নিজের বাড়ির সামনে পশু জবাই দিতাম না। কারণ, এর গন্ধ তো আমাদেরই সহ্য করতে হবে।
ঢাকার প্রায় সব জায়গারই চিত্র একই। দুই সিটি করপোরেশনেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও সচেতনতার অভাবকে এজন্য দায়ী করছেন অনেকে।

তবে জবাইয়ের অনেক নির্ধারিত স্থানে কাঁদা ও পানি জমে থাকায় মানুষ সেখানে যেতে পারেননি বলেও দাবি করেছেন।

এমএ/এআই