কুষ্টিয়ায় মহাসড়ক সংস্কারের নামে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা জলে চলে গেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের। সংস্কারের মাত্র মাস খানেক আগে কাজ শেষ হওয়ার পর সড়কের এখন বেহাল অবস্থা। কোনো রকমে কাজ করেই ঠিকাদাররা বিল তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আর কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের শেষ দিকে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়ক সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়। কুষ্টিয়া মজমপুর গেট থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ২০ টাকা। ১০ জন ঠিকাদার এ কাজ পান। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ঠিকাদাররা কাজ শুরু করেন। শেষ হয় গত মে মাসে।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মহাসড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারের আগে রাস্তার যেমন ছিল তার চেয়ে খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে সংস্কারের পর। শহরের মজমপুর গেট থেকে চৌড়হাস ও আলামপুর থেকে বিত্তিপাড়া পর্যন্ত সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া যে ২৪ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে তার পুরোটায় আগের অবস্থা ফিরে পেয়েছে।
গড়াই পরিবহনের আসলাম বলেন, মাত্র মাসখানেক আগে এ সড়কটি সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। গত এক সপ্তাহ আগে কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতেই রাস্তার বেহাল অবস্থা। এখন চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে। শহরের ব্যস্ততম এলাকা মজমপুর গেটেও মহাসড়কটির করুন অবস্থা। রেলগেটের পাশেই কয়েকটি বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি দূর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন উপ-সহকারি প্রকৌশলী বলেন, ঠিকাদররা কোনো রকমে কাজ করে বিল তুলে নিয়েছে। আর এত অল্প টাকায় কাজ হয় না। তাই কাজের মান ঠিক হয়নি।
তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক অফিস সহকারি বলেন, অফিসের কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা মিলে এসব অর্থ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। যার কারণে রাস্তার এই বেহাল অবস্থা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান রাস্তার বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, সংষ্কার কাজ করার পর রাস্তায় ফের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কাজের পর এত অল্প সময়ে সড়কের এ অবস্থা হওয়ায় ঠিকদারের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। বর্ষা চলে গেলে ভাঙ্গাচোরা অংশ ঠিক করে দেয়ার জন্য ঠিকাদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে। আর তারা কাজ না করলে যে ১০ ভাগ জামানত আছে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
ঢাকা, ৩০ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





