গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সাধু পরমানন্দ রায়ের (৭৫) মরদেহ শোকাহত পরিবেশে দাফন করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার দক্ষিণ বাসুড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মরদেহ সমাহিত করা হয়। এ সময় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা সহ প্রশাসন ও পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে সাধু পরমানন্দ রায়ের নির্মম হত্যার বিচার দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধু পরমানন্দ রায় হত্যাকারী টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মান্নান শেখ মান্নুর ছেলে শরিফুল শেখকে (২৫) পুলিশ শনিবার রাতে টুঙ্গিপাড়া থেকে গ্রেফতার করেছে।
নিহত সাধু পরমানন্দ রায় টুঙ্গিপাড়ার দক্ষিণ বাসুড়িয়া গ্রামের মৃত মহেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে। তিনি বাসুড়িয়া শ্রীশ্রী বাই রসরাজ আশ্রমের রসরাজ ঠাকুরের অনুসারী ছিলেন। তিনি সেখানে সনতন ধর্মের তপস্যা করতেন।
পরমানন্দ রায়ের ছেলে দয়াল রায় বলেন, শনিবার বিকেলে বাবা গিঙ্গাডাঙ্গা হাটে বাজার করতে যায়। হাট থেকে ফেরার সময় গিঙ্গাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মান্নান শেখ মানুর ছেলে শরিফুল শেখ ফার্নিচারের দোকান থেকে ধারালে অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া দেয়। প্রথমে তার হাতে ও পেটের নিচের অংশে কোপ দেয়। এক পর্যায়ে তিনি রাস্তার উপর পড়ে গেলে শরিফুল তার পিঠে ধারালো অস্ত্র ঢুকিয়ে দেয়। অস্ত্রটি পেট দিয়ে বের হয়ে যায়। স্থানীয়রা সাধুকে উদ্ধার করে প্রথমে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে খুলনা নিয়ে যায়। খুলনা থেকে রাতে তাকে ঢাকা নিয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তিনি মারা যান। আমার বাবা ধর্ম আচরন করতেন। এ কারনে এলাকায় সবাই তাকে সাধু হিসেবে চেনেন ও সম্মান করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। রাই রসরাজ ঠাকুরের অনুসারি। আমরা এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মো. মাহামুদুল হক বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত শরিফুলকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ছেলেটির আচরণে মানসিক সমস্যা রয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ তিনি জানাতে পারেন নি।
এআই





