একজন জ্যেষ্ঠ বিজেপি নেতা বৃহত্তর বাংলাদেশ গঠনের এক কল্পকাহিনী প্রকাশ করেছেন। তিনি বিজেপির রাজ্যসভা এমপি চন্দন মিত্র, সাংবাদিকতাও করেন ।
চন্দন মিত্র সম্প্রতি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উত্তর-পূর্ব ভারতে পরিকল্পিতভাবে উদ্বাস্তু অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে তার দাবি অনুযায়ী ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ গড়ার ‘ভয়ঙ্কর ধারণা’য় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন। উইকিলিকসের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি দাবি করেন, ভারতে বাংলাদেশীর সংখ্যা এখন ৩ লাখ ২৬ হাজার। আর বেসরকারি সংখ্যা প্রায় চার কোটি। এ ‘চক্রান্তে’ প্রতিরোধ করতে তিনি ‘থ্রি ডি’ সূত্র প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। এ সূত্র হল, বিদেশীদের যেখানেই পাওয়া যাবে তাদেরকে ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ করতে হবে। এর মানে হল তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে হবে। এবং বহিষ্কার করতে হবে। আর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ‘থ্রি পি সূত্র’ অবলম্বন করতে হবে। এটা তার ভাষায় ‘প্রিভেন্ট, প্রহিবিট অ্যান্ড প্রটেক্ট’। এর মানে প্রতিরোধ, নিষিদ্ধ ও সুরক্ষা গড়তে হবে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর আসামের শিলংয়ে ড. রাধাকৃষ্ণ বয়েজ সেকেন্ডারি স্কুলের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাদানকালে চন্দন মিত্র ওই মন্তব্য করেন। তবে স্কুলের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ওইদিন ‘উত্তর-পূর্ব ভারতে বিদেশী ইস্যু: একটি সমস্যা যা সমাধানের অপেক্ষায়’ একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর কলকতার দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় এই খবর ছাপা হয়েছে।
এতে বলা হয়, বিজেপি নেতা আরও উল্লেখ করেন, “আমি একথা বলতে কোন রাখঢাক রাখতে চাই না যে, বাংলাদেশে অনেক গ্রুপ আছে যারা সেখান থেকে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিতাড়িত করে ভারতে ঠেলে দিচ্ছে এবং একই সঙ্গে তারা উত্তর-পূর্ব ভারতে একই সম্প্রদায়ের মানুষের দল ভারি করছে।”
চন্দন মিত্র আরও বলেন, “সীমান্ত এলাকাকে বেসরকারিভাবে কলোনি করার জন্য দ্বিমুখী কৌশল নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে এমন গ্রুপ রয়েছে যারা অফিসিয়ালি দাবি করছে যে, বৃহত্তর বাংলাদেশ গড়তে হবে। কারণ বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের সিস্টেমে অনকে গলদ আছে। আমরা জানি না ভারতে বাংলাদেশীদের সংখ্যা কত। কিন্তু যদি আমরা একবার তাদের চিহ্নিত করতে পারি তাহলে তাদের বহিষ্কার করতে পারবো।”
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





