দাদনের টাকা পরিশোধ করে মুক্ত হতে চাওয়ায় প্রভাবশালী মৎস্য আড়ৎদার কবির (৪০) নামে এক জেলেকে রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে মাথার চুল কেটে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত ৯টায় ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার সদর রোডের উত্তর বাজার মসজিদের সামনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নির্যাতিত জেলেকে উদ্ধার করে অভিযুক্তকে আটক করে পরে ছেড়ে দিয়েছে।
তজুমদ্দিনের মাওলানা কান্দি গ্রামের মো. খবিরের নির্যাতিত ছেলে জেলে কবির সাংবাদিকদের জানান, তিনি ৬৫ হাজার টাকা দাদনের বিনিময়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে স্থানীয় মৎস ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া নয়ার আড়তে মাছ বিক্রি করে আসছে।
ওই ব্যবসায়ীর গদিতে আর মাছ বিক্রি করতে চান না কবির। তাই সম্প্রতি কবির দাদনের টাকা ফেরত দিতে চাইলে ওই ব্যবসায়ী টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরে সে স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজ উদ্দিনের আড়তে মাছ বিক্রির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। ওই সংবাদ পেয়ে মৎস ব্যবসায়ী গোলাম কিররিয়া নয়া দলবলসহ তাকে বুধবার রাতে কামার পট্টি রাস্তা হয়ে বাড়ি ফেরার সময় তাকে জোড়পুর্বক তুলে নিয়ে যায়।
রাত ৯টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা তাকে উত্তর বাজারে নয়া ও তার ক্যাডার নুরুল হক মালসহ রাস্তার পাশের খুঁটির সাথে হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতন করতে থাকে।
এ পর্যায়ে নয়ার সন্ত্রাসীরা কেচি এনে তার মাথার চুল কেটে নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে উল্লাস করতে থাকে। এসময় নয়া ও তার সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।
রাত ১১ টায় পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে ওই জেলেকে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় মৎস আড়ৎদার গোলাম কিবরিয়া নয়াকে পুলিশ আটক করলেও নুরুল হক মাল পালিয়ে যায়।
পরে নির্যাতিত ওই জেলে এজাহারের জন্য থানায় লিখিত আবেদন করলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে সে অভিযোগ করে। বরং ওই জেলেকে ওসির কক্ষে ডেকে নিয়ে মামলা না করতে চাপ দেয় স্থানীয় কয়েক জন প্রভাশালী।
পরে স্থানীয় বিএনপির সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার মধ্যস্থতায় গভীর রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সমঝোতার পর পুলিশ আসামীকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে গোলাম কিবরিয়ার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে তজুমদ্দিন থানার ওসি হুমায়ুন কবির নিরীহ ওই জেলেকে প্রকাশ্যে চুল কেটে নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি মিমাংশা করে দিবে বলে জেলে কবির থানায় লিখিত দিয়েছে।
তাই আটককৃতকে মৎস্য ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া নয়াকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যদি এখন মামলা করতে চায় তা হলে আবার নেয়া হবে।
এআর





