যশোরের রুদ্রপুর মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজে ২৭ লাখ টাকা অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে উপাধ্যক্ষসহ তিনটি পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত যোগ্যদের না নিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ হতে যাওয়া ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর সর্বশেষ বুধবার বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিকার চেয়েছেন। একই সাথে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন।
এর আগে ১৪ মার্চ কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে এলাকাবাসী তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তবে নিয়োগে কোনো ধরণের অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যে হয়নি বলে দাবি করেছেন কলেজটির অধ্যক্ষ মহিনুল ইসলাম।
কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোবারক আলী, দাতা সদস্য আহসান আলীসহ এলাকাবাসী প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, উপাধ্যক্ষ, একজন প্রভাষক ও একজন এমএলএসএস নিয়োগ বোর্ড ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। যশোর এমএম কলেজে অনুষ্ঠিত ওই বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী উপাধ্যক্ষ পদে ড. গৌর চন্দ্র মিস্ত্রী, প্রভাষক (উৎপাদন ও বিপনন) পদে জিললুর রহমান ও এমএলএসএস পদে হায়দার আলীকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে ড. গৌর চন্দ্র মিস্ত্রীকে ১৫ লাখ, প্রভাষক পদে জিললুর রহমানকে ১১ লাখ ও এমএলএসএস পদে নিয়োগ হায়দার আলীকে ২১ শতক জামিসহ এক লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এমএলএসএস পদে শাহানাজ পারভীন নামে এক নারীকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এক লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু এ পদে এখনও এমপিও হয়নি। তাই কোনো কারণ ছাড়াই তাকে বাদ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা ও জমির লোভে অধ্যক্ষের পছন্দের প্রার্থী হায়দার আলীকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আর এসব অনিয়ম করতে সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ম্যানেজ করা হয়েছে। ওই নেতার মাধ্যমে অনিয়ম করা হচ্ছে।
এবিষয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ মহিনূল ইসলাম বলেন, অনেকে অবেদন করেছিলেন। কিন্তু নিয়াগ বোর্ড যাদের সুপারিশ করেনি; তারা ও তাদের স্বজনার এই অনিয়মের কথা বলছেন। তিনি আরও বলেন, অন্য কেউ প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিলে নিতে পারে। আমি টাকা ছুঁয়েও দেখিনি।
জেআই





