প্রায় ৪ বছর হয়ে গেলেও ঢাকার হোসেনি দালানে বোমা হামলা মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়নি এখনও। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়েই আছে।
১৪৩৭ হিজরি সনের ০৯ মহররম দিবাগত রাতে হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময়ে নৃশংস বোমা হামলা হয়। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) পবিত্র আশুরার দিন (হিজরি হিসেবে) এ বোমা হামলার চার বছর পূর্ণ হলো। যদিও ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর পুরান ঢাকায় হামলাটি হয়েছিল। হামলায় ২ জন নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
এ ঘটনায় চকবাজার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে পরের বছর ১৮ অক্টোবর ১০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়া হয়। এর প্রায় মাস চারেক পর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ১০ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
বিচার শুরুর পর পেরিয়ে গেছে দুই বছর ৭ মাস। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে ৪৬ জন সাক্ষীর মাত্র ১১ জনের । জানা গেছে, মামলায় একজন নাবালক আসামিকে সাবালক দেখানোয় প্রায় ১১ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ।
আসামীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, তদন্ত সংস্থার মারাত্মক ত্রুটির কারণে মামলা বিলম্ব হচ্ছে। এই ত্রুটি না থাকলে মামলার বিচার অনেকদূর এগিয়ে যেত। তদন্তের পর আদালত যখন শিশু দেখেন তখন মামলা শিশু আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, সময় ক্ষেপণের জন্যই নানা কৌশল অবলম্বন করছে আসামীপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, তিন থেকে সাড়ে তিন বছর পর এসে মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত করার জন্য জাহিদ হাসান রানা যদি দরখাস্ত না দিতেন তবে এতদিনে আমাদের ২০ থেকে ৩০টা সাক্ষী হয়ে যেত। সাক্ষী আসার কারণেও কিছুক্ষেত্রে আমরা সাক্ষী গ্রহণ করতে পারিনি।
আসামিদের মধ্যে জাহিদ, আরমান, রুবেল ও কবির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
চলতি মাসেই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করে খুব শীঘ্রই এ মামলার কার্যক্রম শেষ করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
এএস





