চট্টগ্রামে একজন জিকা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর শনাক্ত হওয়ার খবর প্রচারের পর এই নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন।

মঙ্গলবার দুপুরে তাৎক্ষণিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।

এদিকে ঢাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রামে জিকা ভাইরাস আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানানো হলেও আক্রান্ত ব্যক্তির সামাজিক ও পারিবারিক কারণে তার নাম-ঠিকানা ও অবস্থান প্রকাশ করা হবে না বলে সিভিল সার্জন জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, জিকা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই রোগে আক্রান্ত রোগী মারা যায় না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, ২০১৪ সালের আগস্টে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ছিল। তখন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সন্দেহভাজন রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল পরীক্ষার জন্য। যাদের নমুনায় ডেঙ্গু পাওয়া যায়নি (নেগেটিভ) সেগুলো সম্প্রতি পুনরায় পরীক্ষা করা হয় জিকা ভাইরাস আছে কিনা।

ওই সূত্রে একজন রোগীর রক্তের নমুনায় জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ওই নমুনাটি আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত বিদেশি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেখানেও একই ফলাফল আসে। এই রোগী বর্তমানে ভালো আছেন জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, রোগীর সামাজিক কারণে তার নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে তার বয়স বর্তমানে ৬৭ বছর বলে সিভিল সার্জন জানান।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন জানান, জিকা ভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ ও লক্ষণ হিসেবে মৃদু মাত্রায় জ্বর, শরীর ও জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা, চোখ ওঠার মতো চোখ লাল হওয়া, দুর্বল অনুভূতি, ত্বক ও চামড়ায় ছোট ছোট লাল লাল গুটি কিংবা ফুসকুরি ওঠে। তবে ৮০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে জিকার লক্ষণই দেখা যায় না। ২০ ভাগ রোগীর সর্দি-কাশি, রেশ, চোখ লাল হয়ে থাকে। ৭-১০ দিন এ ভাইরাস মানুষের শরীরে সক্রিয় থাকতে পারে। গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে হাজারে দুই-একজনের সন্তানের মাথাটি আকারে ছোট হতে পারে।

এ ছাড়া ১০ হাজারে দুই-একজনের হাত-পা অবশ হতে পারে। এ ভাইরাসের কারণে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন মস্তিষ্ক, হৃদপি-, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, রক্তনালি আক্রান্ত হয় না। এই রোগে মৃত্যুর কোনো ঝুঁকি নেই।

তাৎক্ষণিক এই প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. অজয় কুমার দে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ অফিসের সার্ভিলেন্স মেডিক্যাল অফিসার ডা. মুস্তফা সৈয়দ, ডা. মো. নুরুল হায়দার প্রমুখ। 

এম আর