প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মনে করেন তনু হত্যার ঘটনা আধুনিক অপরাধ। তাই পুরনো মানসিকতায় এই হত্যার বিচার সম্ভব নয়। এই হত্যার বিচার করতে হলে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি আইনকে ঢেলে সাজানোর ওপর জোর দেন তিনি।
শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে আইনের সংস্কার ও আইন কমিশন’ এবং ‘সিলেক্টেড রাইটিংস অন ইন্টারন্যাশনাল ল’: কনস্টিটিউশনাল ল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। বই দুটির রচয়িতা আইন কমিশনের সদস্য ড. এম শাহ আলম।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ‘তনু হত্যার ঘটনা একটি আধুনিক অপরাধ। পুরনো মানসিকতায় তদন্ত করে এর সুষ্ঠু বিচার সম্ভব নয়। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে প্রচলিত ফৌজদারি আইনের মিল নেই। একে ঢেলে সাজাতে হবে। ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি আইন দিয়ে তনু হত্যার বিচার করা যাবে না।’
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার ব্যবস্থার কয়েকটি বিষয়ে পরিবর্তন আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধান বিচারপতি। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তিনটি বিষয়ে পরিবর্তন আনা জরুরি। এগুলো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। এর মধ্যে বিচার ব্যবস্থা বাণিজ্যিক হয়ে যাওয়াটা প্রধান। এ ছাড়া বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে প্রচলিত আইনের মিল নেই। একে ঢেলে সাজাতে হবে। সেই সঙ্গে অধিকার সচেতন হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দায়িত্ব ভুলে যাওয়াটাও অন্যতম প্রতিবন্ধকতা।’
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্যদের আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা রয়েছে বলেও প্রধান বিচারপতি তার আলোচনায় উল্লেখ করেন। যে কারণে প্রচলিত আইনের ত্রুটিগুলো রয়ে গেছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইনপ্রণেতাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো আইন বিষয়ে অজ্ঞতা। জাতীয় সংসদে প্রচলিত আইন কিংবা আইনের সংস্কার বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা না হওয়ায় সংসদে আইনের দুর্বল চর্চা হচ্ছে। ফলে প্রতিটি আইনই ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ রয়ে যাচ্ছে।’
তবে বিচার বিভাগেও ত্রুটি নেই সে কথা বলছেন না প্রধান বিচারপতি। সমাজের অংশ হিসেবে এখানেও কিছু অনিয়ম আছে উল্লেখ করে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, এ দেশের যেখানে রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম সেখানে বিচার বিভাগ আলাদা কোনো দ্বীপের মতো নয়। সব জায়গায় অনিয়ম থাকবে আর বিচার বিভাগের সব ফেরেশতা হয়ে যাবে, এটা হতে পারে না। বিচার বিভাগেও কিছু অনিয়ম আছে কিন্তু সেটা পাঁচ থেকে ১০ শতাংশের বেশি না। এই প্রক্রিয়া মেনে নিয়েই আমাদের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে হবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধ্যাপক প্রফেসর আব্দুল মান্নান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।
এমআইএস।





