যশোর প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য জাহিদুল কবীর মিল্টনকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেছে স্থানীয় দুষ্কৃতিকারীরা।
বুধবার দুপুরে জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় বেধড়ক পিটিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শহরের পুরাতন কসবায় জিম্মি রাখে। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ টাকা, ঘড়ি, স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ও ডিজিটাল ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় তারা। ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলায় হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিল্টন পোস্ট অফিস মোড়ে আসা মাত্রই ৭ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাকে ধরে বেধড়ক পেটায়। এরপর শহরের কাজীপাড়া দিকে তুলে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাইছে না।
হাসপাতালে ভর্তি আহত সাংবাদিক মিল্টন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি বেলা ১টার দিকে শহরের বঙ্গবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পোস্ট অফিসের সামনে পৌঁছালে পুরাতন কসবার মৃত জাহাঙ্গীর ওরফে খোড়া জাহাঙ্গীরের ছেলে রাজসহ ১০ থেকে ১৫ জন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা ও অতর্কিত হামলা করে। এ সময় তার সঙ্গে ছিল স্থানীয় দৈনিক স্পন্দনের কম্পিউটার অপারেটর নাজিম উদ্দিন। বাধা দিলে নিজামকেও মারপিট করে।
তিনি আরও জানান, অস্ত্রের মুখে তাকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায় তারা। একঘণ্টা পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার অজ্ঞাত স্থানে জিম্মি করে রাখে। এসময় কাছে থাকা নগদ টাকা, ঘড়ি, সোনার চেইন, মোবাইল ও ডিজিটাল ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় তারা। হত্যার উদ্দেশ্যে আটকে রেখে শলাপরামর্শে ব্যস্ত থাকার সময় কৌশলে বেলা দুইটার দিকে পালিয়ে আসি। জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পৌঁছালে স্থানীরা যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, মিল্টনের শরীরে কয়েকটি গুরুতর আঘাত রয়েছে।
আহত সাংবাদিক মিল্টনের ভাই যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাকিরুল কবীর রিটন অবিলম্বে দুর্বৃত্তদের আটক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এর বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংবাদিকরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আটকের জন্য যশোরের প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূইয়া।
এছাড়া, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সম্পাদক তৌহিদুর রহমানসহ সাংবাদিক নেতারা। সাংবাদিক নেতারা বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে বিলম্ব করলে যশোরের সাংবাদিকরা কঠোর কর্মসূচি হাতে নিতে বাধ্য হবে।
কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিকদার আক্কাস আলী জানিয়েছেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের আটকের জন্য পুলিশ ইতিমধ্যে মাঠে রয়েছে।
কেএইচ





