গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্র আশিকুর রহমান সাম্য (১৪) হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামির প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দীলিপ কুমার ভৌমিক এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দীলিপ কুমার ভৌমিক আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় এই রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার বর্ধণকুঠি বটতলী এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার কবীর হৃদয় (২১), ভাগদড়িয়া এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে রফিকুল হাসান সজীব (২১) ও নাচাই কোচাই গ্রামের আহসান হাবিব বকুলের ছেলে মাহমুদুল হাসান জাকীর প্রধান (২১)।

অন্য দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পৌর কাউন্সিলর ও বর্ধণকুঠি এলাকার হামিদ উদ্দীনের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৪৫), মাগুড়া সোনারপাড়া এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে মাসুদ রানা সুজন সরকার (২৮), আনারুল ইসলামের ছেলে আলামিন ইসলাম (২১), বর্ধনকুঠি বটতলী এলাকার তাজুল ইসলামের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৫০), বুজরুক বোয়ালীয়া প্রধান পাড়া গ্রামের আশরাফের ছেলে আল আমিন (২৮), মজিবর রহমানের ছেলে শিমুল মিয়া (৩৫), বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার দেউলী দহপাড়া গ্রামের আরেফুর রহমান শিমুল মিয়ার স্ত্রী তৌহিদা আক্তার রুনা লুনা (২৬) ও জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)। এই মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১১ মার্চ চার্জশিট দাখিল করা হয় গোবিন্দগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে।

ওই আদালতে ৪০ দিন এবং গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১৭ দিনের শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গেল ছয় জানুয়ারি উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে জেলা ও দায়রা জজ দীলিপ কুমার ভৌমিক আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।

প্রসঙ্গত, গেল ২০১৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সকালে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের বর্ধনকুঠি বটতলা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কিশোর আশিকুর রহমান সাম্যের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় সাম্যর বাবা আতাউর রহমান সরকার বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় পৌর কমিশনার জয়নাল আবেদীনসহ ১১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নিহত সাম্যর বাবা পৌর মেয়র আতাউর রহমান সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সাম্য হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী পৌর কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়নি। তাই আমি জয়নাল আবেদীনসহ বাকি আসামিদেরও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। রায়ের কপি পাওয়ার পর অন্যান্য আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করে মহামান্য হাইকোর্টে আপিল করা হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুর বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। তাই আমরা রায়ের কপি পাওয়ার পর মহামান্য হাইকোর্টে আপিল করব।

এএস