মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নড়াইল শহরের ডুমুরতলা ঈদগাহ মাঠে নিহত ইমরুল কায়েসের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ওবায়দুল্লাহ কায়সারসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ইমরুল কায়েসের দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন শেষে বেলা ১১টার দিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তার ডুমুরতলার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে ইমরুলের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ‘ঘটনার দুই দিন আগে ডিবি পরিচয়ে ঢাকা থেকে ইমরুল কায়েসকে আটক করা হয়। এরপর সোমবার ভোরের দিকে মতিঝিল এজিবি কলোনির কাঁচাবাজার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ইমরুল নিহত হন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইমরুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ইমরুল ১৪ জানুয়ারি এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষার জন্য ঢাকায় যান। সেখানে তিনি তার এক বন্ধুর বাসায় ওঠেন। পরের দিন রাতে তার বন্ধুর বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ইমরুলের সঙ্গে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করে কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।
ইমরুলের বড় ভাই রাজ্জাক মোল্যা বলেন, ‘ইমরুল কায়েস নড়াইল পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়নসহ গরীব-দুঃখীদের সহযোগিতা করে আসছিলেন। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা তাকে নানা হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ছাড়া তাকে ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর নড়াইলে পুলিশের ওপর হামলা মামলার আসামী করা হয়।’ ইমরুল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলে দাবি করেন তার বড় ভাই রাজ্জাক মোল্যা।
ইমরুল কায়েস নিহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জেলা জামায়াত। সংগঠনের পক্ষে জেলার আমীর মির্জা আশেক এলাহী, সাধারণ সম্পাদক আবু ফাইজা, ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি কে এম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান এ বিবৃতি দেন।
গত সোমবাব ভোর রাতে রাজধানীর মতিঝিলে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নড়াইল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা ইমরুল কায়েস নিহত হন।
জেআই





