সামনে পহেলা বৈশাখ।ইলিশ খেয়ে বছর শুরুর সংস্কৃতি বাঙালির না হলেও সে রেওয়াজই চালু করেছেন এক শ্রেণির ‘বাঙালি’। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বছরের সার্বজনিন উৎসব হিসেবে পালন করছে এ দিনটিকে’।এই মাসে মধ্যে বিত্তরা আর্থিক ভেদাভেদ ভুলে গেলে ও কিনতে পারছেনা ইলিশ। সাধ্যের বাহিরে চলে গেছে দাম।
প্রতিবছর দিনটি এলে উচ্চবিত্ত ও নব্যধনীদের দাপটে চুপসে যান সাধারণ সামর্থ্যের মানুষেরা। অন্তরে বাঙালিয়ানা নিয়েও কেবল ইলিশ কেনার সামর্থ্য না থাকায় পরিবারের সামনে মুখটা অন্ধকার।
ইলিশের সঙ্গে বাংলা নববর্ষের কোনো যোগসূত্র না থাকলেও সংস্কৃতির ধোঁয়া তুলে শহরের মানুষ অনেকটা ঘটা করে পান্তার সাথে ইলিশ খাওয়ার রেওয়াজ গড়ে তুলেছে। একদিকে চলছে ইলিশের পোণা বেড়ে ওঠার জন্য জাটকা সংরক্ষণ।
অন্যদিকে, পহেলা বৈশাখে ইলিশ খেতে নিরুৎসাহিত করতে চলছে প্রচারণাও। কিন্তু নববর্ষকে ঘিরে ইলিশের চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। আর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় হু হু করে বাড়ছে ইলিশের দাম। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে ইলিশ।


কারওয়ান এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, আমার কাছে পর্যাপ্ত মাছ আছে। অবৈধ উপায়ে মাছ নিয়ে আসি না ।শুদু শুদু ঝামেলা করে লাভ তো লাভ কি।
তিনি জানান, কিছুদিন আগেও ছোট ইলিশের হালি বিক্রি করেছেন ১৬শ থেকে ২২শ টাকায়। কিন্তু এখন সে মাছগুলোর প্রতি পিসই বিক্রি করছেন এ চেয়ে বেশি দামে।
এখন যারা কিনছেন, তারা বেশিরভাগই বেশ সামর্থ্যবান বলে জানান এ বিক্রেতা।
এর আগে মৎস্য বিভাগ জাটকা ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ডিম রক্ষায় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।


অভয়াশ্রমের আওতায় রয়েছে- চাঁদপুরের ষাটনল-লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০কিলোমিটার, ভেদুরিয়া-চর রুস্তমের ১৫০ কিলোমিটার, তেঁতুলিয়া নদী ও চরইলিশা-চরপিয়ালের ৯০ কিলোমিটার, ভেদরগঞ্জ-চাঁদপুরের মতলব পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকা।


তবে মার্চ থেকেই ইলিশের দাম চড়তে শুরু করে। পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে প্রতিদিন ইলিশের বাড়ন্ত দাম নিয়ে প্রতিবেদন হয়। সেসব দেখে আরও বেশি হাহাকার করেন কম সামর্থের মানুষেরা।
মাছ ক্রেতা আন মোহাম্মদ জানান, ১৪ হাজার টাকা আয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালান। বৈশাখকে কেন্দ্র করে এক পিস ইলিশ কিনে রেখেছেন সাড়ে ১৪শ টাকায়। সেদিনের অন্য খরচতো এখনো বাকি।

‘সরকারি চাকরিজীবিরা এদিনের বোনাস পাবে বলে সান্ত্বনা আছে। কিন্তু আমরা যারা সীমিত আয়ে টেনেটুনে সংসার চালাই, তারা সন্তানের ইলিশের আব্দার কীভাবে মেটাই? পহেলা বৈশাখে ইলিশ কেন টানেন আপনারা? এত নিউজ আর ফিচার কেন ইলিশ নিয়ে? টিভি খুললেই ইলিশ রান্নার রেসিপি! তাহলে তো উৎসবটা বড়লোকেরই হয়ে গেল’- বলেন এ ক্ষুব্ধ ক্রেতা।

এসব চিন্তা করেই হয়তো সরকারি সংশ্লিষ্টরা ও সংস্কৃতি প্রতিনিধিরা এবার ইলিশ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

তারা বলছেন, সাধারণ মানুষ ও ইলিশের স্বার্থে এ দিনটির সঙ্গে ইলিশকে অঙ্গাঙ্গি করবেন না। উৎসবটি সবার জন্যই উপভোগ্য হোক, আর ইলিশও রক্ষা পাক- এটাই চাইছেন তারা।

 

এইচ ই