পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরের দিনও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়ায় ঘরমুখো যাত্রীদের জনস্রোত দেখা গেছে। কোনোভাবেই থামছে না এই ঢল। ঈদের আগের দিনই মাওয়া-শিমুলিয়া ফেরীঘাট ফাঁকা ছিল।

আজ (১৫ মে) শনিবার সকাল ৮টা মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়ায় ২ নম্বর ফেরিঘাটে 'শাহ মখদুম' ফেরি নোঙর করা। এর ঘণ্টা দেড়েক আগেই পন্টুন দখলে নিয়েছে শত শত মানুষ। গাড়ি ওঠাতে ফেরির গেট খুলে দিতেই শুরু হুড়োহুড়ি। মুহূর্তেই সাধারণ যাত্রীদের দখলে চলে যায় পুরো ফেরি। এরমধ্যে এই বড় ফেরিতে ঠেলেঠুলে জায়গা করে নিতে পেরেছে ১০-১২ টি ব্যক্তিগত গাড়ি।

১ নম্বর ফেরিঘাটে 'শাহ পরাণ' ফেরি নোঙর করে রাখা হলেও সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সেটি ছাড়বে কিনা, তা নিশ্চিত না হলেও ওই পন্টুনেও দেখা গেল পাঁচ শতাধিক মানুষের জটলা। সেই জটলা পন্টুন থেকে ছাড়িয়ে গেছে গাড়ি পার্কিংয়ের মাঠ পর্যন্ত। শুধু ওই দুটি ফেরিতেই নয়, প্রায় সব ঘাটেই যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় চোখে পড়ে। সাধারণ যাত্রীদের কারণে ততক্ষণে ঘাটে জড়ো হয়ে গেছে বিভিন্ন ধরনের শত শত গাড়ি। মানুষের ভিড় ঠেলে সেই গাড়ি আর ফেরি ধরতে পন্টুনের দিকে যেতে পারছিল না।

এক মাইক্রোবাস চালক বলছিলেন, ঘাটে প্রবেশের টার্মিনাল চার্জ ৭৫ টাকা হলেও গাড়িপ্রতি ১০০ টাকা রাখা হচ্ছে। ঘাটেও কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। গাড়ি না উঠতে দিয়ে মানুষ পারাপারেই ব্যস্ত ফেরিগুলো।

সকাল ৭টার দিকে এক প্রাইভেটকার চালক বলছিলেন, ভোর ৪টা থেকে তিনি ফেরিতে উঠতে সিরিয়ালে রয়েছেন। কিন্তু গাড়ি আগায় না। ভিআইপি আর পুলিশ- আনসার ম্যানেজ করতে পারলেই কিছু গাড়ি যাচ্ছে।

শিমুলিয়া ঘাটে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মো: শামীম জানান, ঈদের পরের দিনও ঘরমুখো এমন ভিড় হবে, তা ধারণাতেও ছিল না। মানুষের জন্য ফেরিতে গাড়িই তোলা যাচ্ছে না। তবে সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

এমবি