দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে সমস্যার অন্ত নেই। অবকাঠামো উন্নয়নে নানা কাজ হলেও ফলাফল এখনও শূন্য বলা চলে। এরমধ্যে প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের অভাব। বিদ্যুৎ সমস্যায় জর্জরতি বন্দরে ব্যবসা বাণিজ্যসহ ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম চলছে জেনারেটরে ভর করে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই বন্দর সরকারের বড় অংকের রাজস্ব যোগানদাতা হলেও এখানকার অবকাঠামো পরিস্থিতি উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কারও তেমন নজরদারি নেই। ফলে শুরু থেকেই তাদেরকে ভুগান্তি ভোগ করতে হচ্ছে।
আর বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্দর এলাকায় ২৪ ঘন্টা যাতে বিদ্যুত সরবরাহ থাকে এনিয়ে কাজ চলছে।
এক অনুসন্ধানে স্থলবন্দর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দিনের অধিকাংশ সময় এখানে বিদ্যুৎ থাকেনা। আর ঝড় বৃষ্টি হলে কমপক্ষে দুই দিন বিদ্যুতের দেখা মেলে না। তাই সরকারী ও বেসরকারী সব প্রতিষ্ঠানেই বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে জেনারেটর। বন্দর, কাস্টমস চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন,পর্যটন করপোরেশন, ব্যাংক, বিমাসহ সব খানেই দেখা যায় জেনারেটরের লাইন সংযোগে অফিসিয়াল কার্যক্রম চলছে।
কিন্তু এসব জেনারেটর কম ক্ষমতা সম্পূর্ন হওয়ায় ভারী যন্ত্রের মেশিনগুলো ভালোভাবে চলছে না। মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পন্য খালাশ কাজে ভোগান্তিতে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, বেনাপোল বন্দর থেকে ভারতের বাণিজ্যিক কেন্দ্রস্থল কলকাতা শহরের দূরত্ব ৮৩ কিলোমিটার। যযোগোযযোগ ব্স্থায সহজ হওয়াতে এপথে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি দু’দেশের ব্যবসায়ীদের। কিনতরদ সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় মারাত্বক ভাবে ব্যবহত হচ্ছে বাণিজ্য।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি সমিতির সিনিয়ার সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, শুরু থেকেই এখানকার অবকাঠামোর বেহাল দশা। বন্দর এলাকায় আমদানি-রফতানি বানিজ্যের সাথে সম্পক্ত সরকারী-বেসরকারী প্রায় তিন হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। প্রতিবছর এবন্দর দিয়ে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হচ্ছে। যা থেকে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে। এটি এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হলেও অবকাঠামো উন্নয়নে অবহেলিত।
বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমদানি পন্য থেকে সরকার যে রাজস্ব পায় ওই টাকা লেন-দেন হয় এই ব্যাংকে। সারাদিন জেনারেটরের লাইনে কাজে ভুগান্তি হয়। কিন্তু কি করবো উপায় নেই।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের উপপিরদর্শক (এসআই) পলাশ হোসেন বলেন, কমপিউটারে পাসপোর্ট যাত্রীর কাজ সম্পূর্ন করতে হয়।যাত্রীদের সমস্ত তথ্য সেখানে সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে ইন্টারনেট সার্ভার বিকল হয়ে কাজে বাধা গ্রস্ত হয়।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী যুগ্ম কমিশনার (০২) এহসানুল হক বলেন, এখন বিদ্যুৎ ছাড়াতো কিছুই ভাবা যায়না। যদিও কাস্টমস হাউজে বিকল্প ব্যবস্থা জেনারেটর আছে। কিন্তু জেনারেটন তো দির্ঘক্ষন চলেনা। তাই এখানে বানিজ্যের সার্থে ২৪ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যবস্থা থাকা অবশ্যই দরকার।
বেনাপোলের সিএ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, বৃষ্টি-বাতাস হলে দিনভর বিদ্যুত থাকেনা। আর ঝড় হলে দুই দিন ধরে বিদ্যুতের দেখা মেলেনা। আন্তজার্তিক একটা বন্দর এলাকায় এ অবস্থা কোন ভাবে মেনে নেওয়া যায়না।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক(ট্রাফিক) আব্দুর রউফ রোববার (০৭ মে) জানান, বন্দরে ২৪ ঘন্টা পন্য খালাস কার্যক্রম চলে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুত না থাকলে পন্য খালাসে মারাত্বক বিঘ্ন ঘটে। বন্দরে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খুব জরুরী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শার্শা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মনোয়ারুল ইসলাম জানান, ৩২ কিলোমিটার দুরে যশোর থেকে বিদ্যুতের লাইন এনে বেনাপোল বন্দর এলাকায় সরবরাহ করা হয়। ঝড়-বষ্টিতে তারের উপর গাছ পড়ে গেলে তখন বিদ্যুত লাইন বন্ধ রাখা হয়।
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভরনে বিদ্যুতের গ্রীড সাব স্টেশন বসানো হচ্ছে। এক বছর লাগবে কাজ শেষ হতে। তখন এখানে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুত ব্যবস্থা নিশ্চত হবে বলে জনান তিনি।
নাছির/এমবি





