নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার বায়তুস সালাহ জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস ও ডিপিডিসি’র পক্ষ থেকে পৃথক ৪টি তদন্ত কমিটি গঠনা করা হয়েছে।

শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা-এই দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে প্রাথমিকভাবে তারা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববি। তারা ঘটনার অন্যান্য দিকগুলোও খতিয়ে দেখবেন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববিকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন- নারায়ণগঞ্জ ফায়ার ব্রিগেডের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এ টি এম মোশাররফ হোসেন, ডিপিডিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ব) গোলাম মোর্শেদ, তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নারায়ণগঞ্জ জোনের উপ-মহাব্যবস্থাপক মফিজুল ইসলাম।

বায়তুস সালাহ জামে মসজিদে বিস্ফোণের ঘটনায় শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালেই তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক খাদিজা তাহেরা ববি বলেন, আমরা ঘটনাস্থল ঘুরে এসেছি। তথ্য সংগ্রহ করছি। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে যেটি জানতে পেরেছি, মসজিদের ভেতর দিয়ে তিতাস গ্যাসের সংযোগ লাইন গিয়েছে। সেখান থেকে লিকেজ হয়ে গ্যাস বের হচ্ছে। আবার অনেকে বললেন, একবার বিদ্যুৎ গিয়ে চার-পাঁচ মিনিট পর আবার এসেছে। দ্বিতীয়বার বিদ্যুৎ আসার পরপরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা এই দুটি সমস্যাকে সামনে রেখেই তদন্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বলে কোম্পানির নারায়ণগঞ্জ অফিসের ডিজিএম মফিজুল ইসলাম জানান। কমিটির প্রধান করা হয়েছে তিতাস গ্যাসের ঢাকা অফিসের মহাব্যবস্থাপক আবদুল ওহাবকে।

শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মোহাম্মদ আল মামুন। তিনি বলেন, মূলত মসজিদের ভেতর গ্যাস থাকতে পারে এমন ধারণা করছি আমরা। গ্যাস লাইনের লিকেজ ছিল কিনা সেই তদন্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তবে মসজিদ কমিটি থেকে লিকেজ সংস্কারের কোনও অভিযোগ পায়নি তিতাস কর্তৃপক্ষ। তদন্তে কারও অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরদিকে, ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোর্শেদ কে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটিকে আগামী ৫দিনের মধ্যে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্মন, উপ-পরিচালক (অপারেশন্স) নুর হাসান ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ্ আরেফিন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের প্রতিটি পরিবারকে লাশ দাফন কাফনের জন্য ২০ হাজার ও আহতদের চিকিৎসা বাবদ প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।”

এমবি