মাওয়ায় লঞ্চ ডুবির ঘটনায় মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী সবুজের মা, স্ত্রী, ছেলে ও শ্যালক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পাঁচ দিনেও মেলেনি তাদের সন্ধান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চেয়ারম্যান সবুজকে দেখতে ঢাকায় যাচ্ছিল ওই পরিবার। তিনি এখনও জানেন না তার পরিবারের চার সদস্য আর ‘নেই’। ওই দুই পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

কাজী সবুজের বড় ভাই ব্যাংক কর্মকর্তা কাজী হুমায়ন কবীর জানান, সোমবার সকালে তারা কালকিনি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। কাওড়াকান্দি গিয়ে পিনাক-৬ নামের লঞ্চে তারা ৬ জন ওঠেন। লঞ্চ ডুবির পর হুমায়ন ও তার ছোট বোনের স্বামী নদীর পাড়ে উঠতে পারলেও তার মা হিরোন নেছা (৬৫), চেয়ারম্যানের স্ত্রী ময়না আক্তার তৃষা (২৫), ছেলে তৌফিকুর নূর (১), শ্যালক আল-আমিন (৩০) উঠতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমার ভাই কাজী সবুজ অসুস্থ থাকায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাকে দেখার জন্যই আমরা সবাই মিলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের আর ঢাকায় যাওয়া হলো না। এখন পর্যন্ত সবুজকে এই খবর দেওয়া হয়নি।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুই পরিবারে চলছে শোকের মাতম। চেয়ারম্যান সবুজ কাজীর বাবা তার নিজ ঘরে নির্বাক হয়ে বসে রয়েছেন। কোনো কথা বলতে পারছেন না। শুধু মানুষের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। অপরদিকে তার শশুরবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়- এলাকার নারী-পুরুষ ওই বাড়িতে ভিড় করে রয়েছে। তাদের কান্নায় ভারি হয়ে গেছে এলাকার বাতাস।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক বলেন, চেয়ারম্যান কাজী সবুজের অসুস্থ্যতার খোঁজ নিতে গিয়ে এরা চার জন নিখোঁজ হন। যে করেই হোক দ্রুত তাদের মৃতদেহগুলো যেন পরিবারের স্বজনরা পান, এটাই এখন তাদের শেষ চাওয়া।

ঢাকা, ৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই