বাগেরহাটে গ্রাহকদের নামে ঋণ দেখিয়ে ২৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংক মোরেলগঞ্জ শাখার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শাখাটির ম্যানেজার দীপক কুমার কুন্ডু বাদী হয়ে এসপিও মিসেস শাফিয়া বেগম ও অফিসার ক্যাশ সৈয়দ শিয়ন সাইফকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।

এ দুই কর্মকর্তা হলেন, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার নওয়াগ্রাম এলাকার সৈয়দ নাজুল হকের ছেলে সৈয়দ শিয়ন সাইফ (৩০) ও মোরেলগঞ্জের বারইখালী গ্রামের মজিবুর রহমানের স্ত্রী মিসেস শাফিয়া বেগম (৫৯)।

এর আগে গত ২৯ মার্চ তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তবে বরখাস্ত ও মামলা করার আগে থেকেই শিয়ন সাইফ পলাতক রয়েছেন।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মোরেলগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংকের ২৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালক মামলাটির তদন্ত কাজ পরিচালনা করবেন।

ইতিমধ্যেই মামলার নথিপত্র বিশেষ বাহক ও ডাক মারফত দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, অগ্রণী ব্যাংক মোরেলগঞ্জ শাখায় চাকরিকালে ম্যানেজার শাফিয়া বেগম ও শিয়ন সাইফ তাদের কর্মকালীন সময়ে ভাউচার ব্যাতিরেকে কম্পিউটার পোষ্টিং এবং চেকের মাধ্যমে উল্লেখিত অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যে সব এক্যাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, মেসার্স মোহাম্মদীয়া ষ্টোর ৫ লাখ, রুম্মান ষ্টোর ২ লাখ ৬০ হাজার, ইকবাল ষ্টোর ৩ লাখ, রবি ষ্টোর ৫ লাখ, হাসান ষ্টোর ২ লাখ, বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স ২ লাখ, কালাম ষ্টোর ২ লাখ ও সিরাজ মেডিক্যাল হলের নামে ১ লাখ টাকা।

বিভাগীয় তদন্তে ভোগ্যপণ্য ১৬টি ও ইজিপিআরপি লোনের ৫২টি নথি ব্যাংকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ম্যানেজার দীপক কুমার কুন্ডু। এ ছাড়া ঋণের ১২টি নথিতেও বড় ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে।

চলমান তদন্তে আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলেও জানা গেছে।

ইআর