গেটম্যান ও গেটবারিয়ার না থাকায় জামালপুর - তারাকান্দি এবং জামালপুর - দেওয়ানগঞ্জ সেকশনে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে প্রায় শতাধিক রেলক্রসিং। ফলে সড়ক মহাসড়ক ছাড়াও স্থানীয় সড়কে রেলক্রসিং অতিক্রম করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবহন। ঘটছে হতাহতের ঘটনা।
সবশেষে মেলান্দহ থানার শ্যামপুর রেলক্রসিং পার হবার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় ৬ অটোরিক্সা যাত্রীর। এই ক্রসিংয়ে গেটব্যারিয়ার আর গেটম্যান কোনটিই নেই। ঝুঁকিপুর্ণ আরও বেশ কয়েকটি রেল ক্রসিংয়ে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটবার প্রাণহাণির ঘটনা ঘটলেও প্রতিকারে কোন উদ্যোগ নেই। কোন পদক্ষেপ নেই রেল কর্তৃপক্ষের। রেল ক্রসিংগুলো পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে।
জামালপুর রেল সেকশনের আওতায় ময়মনসিংহের বিদ্যাগঞ্জ রেলষ্টেশন থেকে জামালপুর জংশন হয়ে তারাকান্দি এবং জামালপুর থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত অনুমোদিত রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা ৮৯ টি। রেলের অনুমোদন থাকলেও এই ৮৯ টি ক্রসিংয়ের মধ্যে ৭৮ টিতেই নেই গেট ব্যারিয়ার ৭৭ টিতেই নেই কোন গেটম্যান। এছাড়া এ সেকশনে অননুমোদিত অবৈধ ক্রসিং রয়েছে ৪৫টি।
প্রতিদিন এসব অরক্ষিত ক্রসিং পারাপার হচ্ছে অসংখ্য যানবহন। ফলে ঝঁকিপূর্ণ এসব ক্রসিং অতিক্রম করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
জামালপুর জংশনের এই দুটি সেকশনের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ঝুকিপূর্ন ক্রসিং ৪ টি। এর মধ্যে জামালপুর ময়মনসিংহ মহাসড়কে কানিল রেল ক্রসিং, জামালপুর মেলান্দহ দেওয়ানগঞ্জ সড়কে শ্যামপুর রেলক্রসিং, জামালপুর মাদারগঞ্জ সড়কে শেখেরভিটা রেলক্রসিংও জামালপুর- সরিষাবাড়ী সড়কে কালীবাড়ী রেলক্রসিংটি।
জামালপুর ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাদে অন্য ৩টিতে গেটব্যারিয়ার ও গেটম্যান নেই। যুগযুগ ধরে ঝুঁকি নিয়েই ক্রসিংগুলো অতিক্রম করছে এসব সড়ক দিয়ে চলাচলরত মানুষজন। ক্রসিং পারাপারের সময় কথাহয় শেখেরভিটা এলাকার বাসিন্দা জবেদ মিয়ার সাথে। তিনি এ বলেন, এই ক্রসিং অতিক্রম করেছে জামালপুর মাদারগঞ্জ সড়ক। সড়কটি সব সময় ব্যাস্ত থাকে।
ব্যস্ততম সড়কটি দিয়ে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএনজি রিক্সা ও ব্যাটারীচালিত অটোবাইকসহ অসংখ্য যাত্রীবাহী ও মালবাহী গাড়ী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। ক্রসিং এ নেই গেট ব্যারিয়ার এবং গেটম্যানও।
অসংখ্যবার দুর্ঘটনা ঘটলেও রেল কর্তৃপক্ষ গেটব্যারিয়ার স্থাপন এবং গেটম্যান নিয়োগে উদ্যোগ নেয়নি। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই ক্রসিং প্রতিনিয়ত অতিক্রম করতে হয় আমাদের। বিষয়টি স্বীকার করে জামালপুর রেলওয়ে জংশনের ষ্টেশনের স্টেশনের মোঃ তারিক বলেছেন, জামালপুর সেকশনে রেলের অনুমোদিত ৮৯ টি লেবেল ক্রসিংয়ের অধিকাংশই গুরুতবপূর্ণ সড়ক মহাসড়ক অতিক্রম করছে।
প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন এসব ক্রসিং অতিক্রম করে চলাচল করে। ফলে যেকোন মুহুর্তে এসব ক্রসিংয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংঙ্কা থাকে সব সময়। এ অবস্থায় বড় ধরনের দূর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে এসব ক্রসিংয়ে গেট ব্যারিয়ার স্থাপন ও গেটম্যান নিয়োগ দেয়া হবে এটাই আশা করে এই এলাকার মানুষ।
জাহিদুর রহমান/এমবিএচই





