তিস্তা ব্যারাজের সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকা পানিশুন্য। বোরো ক্ষেত পানির অভাবে নষ্ট হতে বসেছে। এজন্য সুবিধাভোগীরা বুধবার সকালে প্রকল্পের কমান্ড এলাকায় অবরোধ করেছে। অবরোধের সংবাদ শুনে কর্মকর্তা কর্মচারীরা গাঢাকা দিয়েছে। কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে বাড়ীতে চলে যায়। এছাড়া তিস্তার ব্যারাজের কন্টোল টাওয়ার বন্ধ করে পালিয়েছে কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
ভারত পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবা ব্যারেজ নির্মাণ করে তিস্তার পানি প্রবাহ পুরোটাই সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকার এখন মরুভুমিতে পরিনত হয়েছে। বুধবার তিস্তার পানি প্রবাহ ১০০কিউসেকের নিচে নেমে আসে। বর্তমানে তিস্তা ব্যারেজের পানি প্রবাহ পাওয়া যাচ্ছে তা ব্যারেজ সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ করার সর্বনিম্ন পর্যায়ে। বর্তমানে তিস্তায় প্রবাহ না থাকায় এলাকায় কৃষকরা গত ৩দিন থেকে পানি সরবরাহ করতে পারছে না। তিস্তা অববাহিকার মানুষজন মন্তব্য করে বলছেন স্মরনকালে ৩২ বছরে সব রেকর্ডভঙ্গ করে পানি শুন্যতায় পড়েছে তিস্তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানালেন, গত সোমবার থেকে তিস্তায় পানি একশত কিউসেক নিচে নেমে আসে। যে পানি দিয়ে সেচ প্রকল্পের একশত হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সমম্ভ নয়।
সেচের দাবিতে বুধবার তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া ডিবিশনের পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে কৃষকরা ছুটছেন দলে দলে। কৃষকদের অবরোধের সংবাদ শুনতে পেয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গাঢাকা দেয়।
তিস্তার ব্যারেজের ভিতরে বিক্ষোভ সমাবেশে এসওয়ান টি সেচ ক্যানেলের সভাপতি আমিনুর রহমান সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কৃষক ও নাউতরা ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন মিন্টু, এসওয়ান টি সেচ ক্যানেলের সহ-সভাপতি সাহিদুল ইসলাম শেফা, এসটু টি সেচ ক্যানেলের সম্পাদক আশাদুজ্জামান, টিটুটি ক্যানেলের সভাপতি নুরল হক, টি ওয়ান এটি ক্যানেলে সভাপতি আতোয়ার রহমানসহ কৃষক সমিতির সদস্যরা।
কৃষক সমিতির অভিযোগ পানি যেভাবে কমতে শুরু করছে তাতে কমান্ড এলাকার কোন জমিতে গত ১৫দিন থেকে সেচের পানি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পানির চাপ কম থাকার কারনে প্রধান সেচ খালে পানি থাকলেও শাখা ক্যানেলে পানি যাচ্ছে না।
জেআই





