মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বদরচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অস্ত্রের মুখে অন্তত ৫০০ ব্যালট ছিনতাই করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়নের বিকিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এছাড়া কেন্দ্রে দু'পক্ষের সংঘর্ষে দু'জন গুলিবিদ্ধসহ ৯ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মুক্তার হোসেনের সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
এরপর দুপুর ১২টার দিকে মুক্তার হোসেনের ৩০/৪০ জন সমর্থক নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ৫টি বুথ থেকে অন্তত ৫০০ ব্যালটসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশের এসআই মোহাম্মদ আলী জানান, মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় ৩০/৪০ অস্ত্র, চাপাতি, দাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিচতলার ৫টি বুথে ঢুকে জাল ভোট দেয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা বুথের সব ব্যালট নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ সময় পুলিশ ও ওই কেন্দ্রর প্রিসাইডিং অফিসারকে তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে।
পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল হাসান জানান, ব্যালট ছিনতাই ঠেকাতে আমার হাতে থাকা শর্টগান দিয়ে গুলি করি, কিন্তু গান থেকে গুলি বের হয়নি।
তিনি জানান, পরে তার পাশে থাকা কনস্টেবল হারুন-অর রশিদ চায়না রাইফেল দিয়ে আত্মরক্ষার্থে ৩/৪ রাউন্ড গুলি চালায়। কিন্তু ততক্ষণে দুর্বৃত্তরা ব্যালট নিয়ে পালিয়ে গেছে।
ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবদুল আলিম জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা ফিল্মি কায়দায় বুথে ঢুকে পড়ে। এ সময় আমার কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং অন্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মারধর করে ব্যালট ছিনতাই করে নিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় সামিয়কভাবে ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। খবর পেয়ে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ ও বিজিবি নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া জাহান।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, আপাতত এই কেন্দ্রর ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে।
এমবি





