চালক ঘুমিয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের প্লাটফর্মে ইঞ্জিনসহ মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেসের বগি উঠে যায় বলে জানিয়েছেন চালক একেএম জহুরুল হক ও বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এম মুরাদ হোসেন। এদিকে ঘটনার তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রভাতী এক্সপ্রেসের লোকমাস্টার (চালক) একেএম জহুরুল হক বলেন, ‘আজ সকালে ঢাকাগামী প্রভাতী এক্সপ্রেসের ১৬টি কোচসহ শানটিং ইঞ্জিন দিয়ে টেনে পাহাড়তলীর মার্শাল ইয়ার্ড থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনের দিকে নিয়ে আসছিলাম। ভোর সাড়ে ৫টার পরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ৫ নম্বর প্লাটফর্মে আসার পর ট্রেনের ইঞ্জিন এবং একটি কোচ লাইনচ্যুত হয়ে প্লাটফর্মে উঠে যায়। পরপর দুই নাইট ডিউটির কারণে আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।’

বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এম মুরাদ হোসেনের বলেন, ‘চালক ঘুমের ঘোরে থাকায় পৌনে ৬টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চার সদস্যের প্রথম তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন-ডিভিশনাল ট্রান্সপোর্টেশন অফিসার (ডিটিও) মো. ফিরোজ ইফতেখার, ডিএন-১ সাওন কবির, ডিএনই (লোকো) সাইফুল ইসলাম ও সিএসটিই মো. আবিদ হোসেন।

অন্যটিতে রয়েছেন- চিফ ট্রেন কন্ট্রোলার বোধিপ্রিয় বড়ুয়া, এডিশনাল চিফ কমার্শিয়াল অফিসার, এডিশনাল চিফ ইঞ্জিন (সেতু), এডিশনাল চিফ মেকানিক্যাল ও এডিশনাল চিফ সিগনাল ও টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের কর্মকর্তা। তবে চিফ ট্রেন কন্ট্রোলার বোধিপ্রিয় বড়ুয়া কমিটির সদস্যদের নাম জানাতে চাননি।

ডিভিশনাল ট্রান্সপোর্টেশন অফিসার (ডিটিও) মো. ফিরোজ ইফতেখার বলেন, ‘ভাগ্যক্রমে কারও প্রাণহানি কিংবা যাত্রীসাধারণের কোনো রকম ক্ষতি হয়নি। ইঞ্জিনসহ বগিটি উদ্ধার করে সকাল ১১টায় রেললাইনে আনা হয়েছে।’

তদন্ত কমিটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আশা করি আগামীকাল প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’

রেলওয়ে (জিআরপি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিমাংশু দাশ জানান, সকালে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়া মহানগর প্রভাতীর জন্য নিয়ে আসা ১৬টি রিপ্লেসমেন্ট বগির একটি বগি নিয়ে ইঞ্জিনটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্লাটফর্মে উঠে আসে। ইঞ্জিনটি ছিল সান্টিং ইঞ্জিন যার কাজই হল ট্রেনের বগিগুলোকে স্টেশন থেকে ইয়ার্ডে আনা-নেওয়া বা রিপ্লেসমেন্ট করা। একটি বগি ও ইঞ্জিনটি রেখে অবশিষ্ট ১৫টি বগি নিয়ে মহানগর প্রভাতী ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে মেঘনা এক্সপ্রেস ৬ নম্বর প্লাটফর্মে একই রকম ঘটনা ঘটে। সেদিন প্লাটফর্মে উঠে না আসলেও শেষপ্রান্তে বাধা প্রদানকারী বা জেটএন বাফার ভেঙে রেলের ইঞ্জিন প্লাটফর্মের সামনে এসেছিল। বাধা প্রদানকারী বা জেটএন বাফারের দুর্বলতার কারণে ওইদিন দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানা যায়।

জেআই